গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামে বাসিন্দা আশরাফুল হক। ঈদের ছুটিতে আজ মঙ্গলবার বাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন তিনি। হাতের তার দুটি চার্জার ফ্যানের প্যাকেট। জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামে সন্ধায় ইফতারির সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর আসে রাত ১১টা-১২ টার দিকে। দিনের অন্যান্য সময়েও বেশ কয়েকবার বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে। প্রচন্ড গরমে বিদ্যুতের অভাবে সেদ্ধ হওয়ার মত অবস্থা হয়েছে। বাড়িতে থেকে ফোন দিয়ে কয়েকবার বলেছে কাপড় না আনলেও চলবি কিন্তু ফ্যান আনতে হবে। লোডশেডিংয়ের জন্য ফ্যান নিয়ে যাচ্ছি।
শুধু আশরাফুল নয়, ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন তাদের প্রায় সবাই লোডশেডিং নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে।
অন্যান্য বছরের মতো এবারও দেশের সর্বত্র তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। ওই জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা বুলবুল আহমেদ, যিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
তার ভাষায়, ‘গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসে অসহনীয় গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে আনন্দ মাটি হওয়ার উপক্রম। ঢাকায় বিদ্যুৎ যায় না বললেই চলে। আর গ্রামে এসে দেখছি বিদ্যুৎ থাকছে খুবই কম। গরমে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না। দিনের বেলাতেও ঠিকমত বিদ্যুৎ থাকে না। বাধ্য হয়ে একটি আইপিএস কিনেছি। কিন্তু সেটা চার্জ হওয়ার জন্য যতটুকু সময় বিদ্যুৎ থাকা দরকার তাও পাওয়া যাচ্ছে না।’
গতবছর ঈদে সাতক্ষীরায় গ্রামের বাড়ি যেতে না পারায় এবার বেশ আগে থেকেই গ্রামে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসিন্দা জাফর আহমেদ। কিন্তু এবারও যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে জাফর জানান, যে গরম পড়ছে। তার উপর আবার লোডশেডিং। এই অবস্থায় বৃদ্ধ মা ও শিশু সন্তান নিয়ে গ্রামে যাওয়া ঠিক হবে না ভেবে ঈদের পর যাওয়ার চিন্তা করছি।
যশোরের নওয়াপাড়ার বাসিন্দা আফরোজা সুলতানা ঢাকায় একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ি থাকার পরিকল্পনা থাকলেও লোডশেডিংয়ের কারণে ঈদের পরদিনই ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রমজান ও গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সেবায় কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে না বলে বিদ্যুৎ বিভাগ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেও তা গরম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। ঢাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সহনীয় হলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না গত কয়েকদিন ধরে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ না বাড়ানো পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা দেখছেন না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল হয়ে পড়েছে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দিন যত এগোবে, লোডশেডিংয়ের পরিমাণ তত বাড়বে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।