স্ত্রী ও নিজের নামে গাছ লাগিয়ে পুরস্কার পেতে আবেদন, লঘুদণ্ড পেলেন ইউএনও

চট্টগ্রামের হাটাহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসাবে কর্মরত থাকাকালে মোহাম্মদ রুহুল আমীন নিজ পদবি গোপন করে নিজের ও স্ত্রীর নামে বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০২২ এর জন্য আবেদন করেছিলেন। পুরস্কার প্রদানসংক্রান্ত উপজেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি সেই আবেদন জেলা ও বিভাগীয় কমিটির কাছে সুপারিশও করেছিলেন। এ ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় ‘অসদাচরণের’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ‘তিরস্কার’ সূচক লঘুদণ্ড দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। 

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মোহাম্মদ রুহল আমীন বর্তমানে বাংলাদেশ চা বোর্ড, চট্টগ্রামে সচিব (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রুহল আমীন ২০২২ সালের ৫ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলার প্রাক্কালে হীন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল না হওয়ায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যথাযথ ও আইনসম্মত কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এর মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। 

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, যেহেতু, অভিযোগনামা, অভিযোগ বিবরণী, অভিযুক্ত কর্মকর্তার জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রাদি পর্যালোচনান্তে অভিযুক্ত কর্মকর্তার মোহাম্মদ রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে সরকারি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮–এর ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে তিনি বেশ কয়েকটি বাগান সৃজন করে জনস্বার্থের জন্য ইতিবাচক কাজ করেছেন বিধায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও তাকে সর্বনিম্ন দণ্ড ‘তিরস্কার’ দণ্ড প্রদান করা সমীচীন বলে প্রতীয়মান হয়। সেহেতু, মোহাম্মদ রুহুল আমীনকে তার বিরুদ্ধে আনীত 'অসদাচরণ' এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৪(২)(ক) বিধি অনুযায়ী 'তিরস্কার' সূচক লঘুদণ্ড প্রদান করা হলো।