ঈদের দিনের বিশেষ আমল

ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ দুটি উৎসবের মধ্যে একটি। এক মাস সিয়াম সাধনার পর আল্লাহর পক্ষ থেকে মোমিনদের জন্য একটি বিশেষ উপহার। ঈদ মানে খুশি, উঁচুনিচু ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে সারিবদ্ধ হওয়া। অসহায়ের মুখে হাসি ফোটানো। ঈদের আনন্দ ও উল্লাস অনেক বেশি প্রাণবন্ত হবে সেটা যদি নবী আদর্শে হয়।

এক. ভালোভাবে গোসল এবং ভালো পোশাক পরিধান করা। এটা রাসুল (সা.)এবং তার সাহাবিদের আমল ছিল। নাফে (রহ.) থেকে বর্ণিত, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন। -মুয়াত্তা ইমাম মালিক

দুই. ঈদগাহে যাওয়ার আগে খেজুর বা মিষ্টান্ন খাবার খাওয়া। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। অপর এক বর্ণনায় আনাস (রা.) রাসুল (সা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি তা বেজোড় সংখ্যায় খেতেন। -সহিহ বুখারি

তিন. রাস্তা পরিবর্তন করা। অর্থাৎ এক রাস্তা দিয়ে গিয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ঈদের দিন বাড়ি ফেরার পথে ভিন্ন পথ দিয়ে আসতেন। -সহিহ বুখারি

চার. ঈদের নামাজ শেষে খুতবা শ্রবণ করা। ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.), আবু বকর (রা.) ও ওমর (রা.) উভয় ঈদের নামাজ খুতবার আগে আদায় করতেন। -সহিহ বুখারি

পাঁচ. পরস্পর পরস্পরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো। হজরত ওয়াসিলা (রা.) ঈদের দিন হজরত রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা। রাসুল (সা.) বললেন হ্যাঁ, তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা। -(ফাতহুল বারী লিইবনে হাজার ২/৫১৭) ঈদের খুশি বয়ে যাক সকলের তরে। সকলকে ঈদ মোবারক।