বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে সাধারণত গ্রামীণ সংস্কৃতির চিরায়ত ঐতিহ্য হিসেবেই উল্লেখ করা হয়ে থাকে। আধুনিককালে গ্রামীণ সংস্কৃতির নববর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি শহরকেন্দ্রিক নববর্ষ উদযাপনের নানা ধরনের শোভাযাত্রা, উৎসব-অনুষ্ঠান, মেলা প্রভৃতি আয়োজিত হয়ে থাকে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির চিরায়ত কালের বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের আগেই শহরকেন্দ্রিক নববর্ষ উদযাপনের বিশ্বস্বীকৃতি ঘটেছে।
বাংলাদেশের শহরকেন্দ্রিক বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক শোভাযাত্রা তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ‘পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে ইউনেস্কো ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বঐতিহ্য বলে ঘোষণা করে। তবে, মনে রাখা প্রয়োজন বাংলাদেশের শহরকেন্দ্রিক বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাসে চারুকলা অনুষদের ‘পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা’য় প্রথম বা একমাত্র উৎসব অনুষ্ঠান নয়। ইতিহাসে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বহু আগেই এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আগে ছায়ানট নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে রমনার বটমূলে বৈশাখবরণ তথা বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠান শুরু করে।
শহরকেন্দ্রিক বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনে ছায়ানটের সেই অভিযাত্রা কোনো নিস্তরঙ্গ এবং খেয়ালখুশির আয়োজন ছিল না। তা ছিল বাংলাদেশের সম্প্রদায় সম্প্রীতির সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ভিন্ন ধরনের প্রকাশ। কেননা, এ ভূখণ্ডের তৎকালীন ইতিহাসে লেখা আছে যে, পাক-ভারত যুদ্ধের পর ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান সরকার পূর্ব-পাকিস্তানের বেতার ও টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীতের প্রচার বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তানের তথ্যপ্রচারমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন ঘোষণা করেন‘রবীন্দ্রনাথ আমাদের জাতীয় আদর্শবিরোধী কবি, তাই তার গান নিষিদ্ধ হওয়া দরকার’। এই ঘোষণার প্রতিবাদ করেন বাংলাদেশের লেখক-কবি-বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। শুধু তাই নয়, এদেশের সাংস্কৃতিক সচেতন মানুষ সে সময় চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের শক্তিকে বেগবান করতে প্রাচীন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সাংস্কৃতিক ভাবসম্পদ থেকে শুরু রবীন্দ্র-নজরুল ও লোকায়ত সংস্কৃতির ভেতর থেকে সম্প্রদায় সম্প্রীতির বোধ নিয়ে নতুন নতুন উদ্দীপনায় জেগে ওঠার পথ খুঁজতে থাকে। আসলে, সেই বোধ থেকে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট বাংলা নববর্ষ উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের সংগীত বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৩৭০ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ (১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১৪ এপ্রিল)। ছায়ানটের কার্যক্রমের শুরুর দিকেই যখন পাকিস্তান শাসন গোষ্ঠীর রবীন্দ্রসংগীতের বিরোধিতা শুরু করে তখন ছায়ানট সংগীত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক-শিল্পীরা সচেতন হয়ে ওঠেন। পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শিল্পিত প্রতিবাদ হিসেবে ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন তথা ১৩৭৪ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ (১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ) রমনার বটমূলে বর্ষবরণ উৎসব করে। কিন্তু রমনার বটমূলে ছায়ানটের সেই বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্ব নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল।
এ সম্পর্কে ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সন্জীদা খাতুন লিখেছেন, 'খোলা মাঠে গান হয় না বলে বিজ্ঞ সংগীতজ্ঞরা আমাদের নিরুৎসাহ ও নিরস্ত করতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমরা জানতাম এ দিনের গান কেবল গাইবার আনন্দে গাওয়া! কেউ শুনল কি না তা আমাদের গ্রাহ্য করবার দায় নেই। নববর্ষ-সম্মিলন হচ্ছে সরবে। পাকুড় গাছের পাতা দুলিয়ে বইছে প্রভাতের ঝিরিঝিরি বাতাস। সমবেত কণ্ঠে গাইছি ‘আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে’, প্রচলিত ধর্মাচরণের কোনোই স্পর্শ নেই, তবুও সংগীতের সংবেদন মনকে আশ্চর্য ভক্তিমাখা আনন্দরসে আপ্লুত করেছে এই প্রভাতে! সূর্য অন্ধকারকে বিদূরিত করে। মানুষ আলোর পিয়াসী। আমরা আলোকের ঝরনাধারায় অন্তরকে ধুয়ে নিতে চেয়েছি, অন্তরের যে ধূলার আস্তরণ তা মোচন করতে চেয়েছি, একে কোনো বিশেষ মতের ধর্মাচরণ বলে জানি না, মানি না। মানবসমাজের অভিসার তো আলোর অভিমুখেই। এর জন্য বিশেষ কারও বন্দনা করবার প্রয়োজন দেখি না। আপন আত্মাকেই আমরা বলতে চাই জাগো উদ্ভাসিত হও।' (সন্জীদা খাতুন, প্রবন্ধসংগ্রহ, নবযুগ প্রকাশনী, ঢাকা ২০১০) কিন্তু ছায়ানটের এই বাংলা বর্ষবরণের প্রবহমানতা সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত রক্ষিত হলেও বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই প্রতিরোধ কখনো এসেছে স্বৈরশাসকদের কাছ থেকে, কখনো মৌলবাদীদের কাছ থেকে।
অনেকে মনে করতে পারবেন, ২০০১ খ্রিস্টাব্দে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানস্থলে মৌলবাদীদের ভয়ংকর বোমার বিস্ফোরণে ১০জন প্রাণ হারান। তবুও ছায়ানটের সেই বাংলা বর্ষবরণের অভিযাত্রা অদ্যাবধি থামেনি। কিন্তু কভিড-১৯ এর অতিমারীর কারণে ২০২০ খ্রিস্টাব্দে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হতে পারেনি। এক্ষেত্রে ছায়ানটের বর্ষবরণ বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন হয়ে একটা দুঃসময় অতিক্রম করছে, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস এই বিপর্যয় কাটলে ছায়ানট আবার রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ফিরে আসবে। কেননা, সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের বর্ষবরণের আয়োজনটি ধীরে শহরকেন্দ্রিক মানুষের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে।
রমনার বটমূলে ছায়ানটের এই বর্ষবরণের আয়োজনের সমান্তরালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা’ শহরকেন্দ্রিক বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রধান একটি অনুষ্ঠানে রূপ লাভ করেছে। জানা যায়, এ ধরনের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রথম প্রকাশ ঘটেছিল ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে যশোরে। চারুপীঠ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যশোরে ১৩৯৩ বঙ্গাব্দে (১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে) প্রথমবারের মতো বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করেছিল। যশোরের সেই শোভাযাত্রায় ছিল বিভিন্ন ধরনের পাপেট, বাঘের প্রতিকৃতি, পুরনো বাদ্যযন্ত্রসহ আরও অনেক শিল্পকর্ম। এ ধরনের শোভাযাত্রা শুরুর বছরেই যশোরে আলোড়ন তৈরি করেছিল। পরে যশোরের সেই শোভাযাত্রার আদলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে এক ধরনের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মাথা রেখে বাংলা বর্ষবরণের আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় যে, ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি থেকে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্য এবং একইসঙ্গে শান্তির বিজয় ও অপশক্তির অবসান কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট (বর্তমানে চারুকলা অনুষদ) উদ্যোগী হয়ে ওঠে এবং ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রবর্তন করে।
১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দের পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠিত পহেলা বৈশাখের সেই আনন্দ শোভাযাত্রা ঢাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। তাই পরের বছর থেকে আরও ব্যাপক আকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এই আনন্দ শোভাযাত্রা বের করার উদ্যোগী হয়ে ওঠে। সে উদ্যোগ প্রতি বছর অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা’র অনতম আকর্ষণ হলো বিশালকায় চারুকর্ম তথা পুতুল, হাতি, কুমির, লক্ষ্মীপেঁচা, ঘোড়া, বাঘসহ বিচিত্র মুখোশ এবং সাজসজ্জা, বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্য। উল্লেখ্য, শুরু থেকে চারুকলার পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রাটির নাম ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ছিল না, ছিল ‘বর্ষবরণে আনন্দ শোভাযাত্রা’।
সংবাদপত্র থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের এই ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’টি ‘পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাম গ্রহণ করে। নামের মতো এই শোভাযাত্রাটি কালের পরিক্রমায় নানা বিবর্তনের মধ্যদিয়ে আজকের রূপ লাভ করেছে।
জানা যায়, ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত প্রথম আনন্দ শোভাযাত্রায় যেখানে শুধু পাপেট, ঘোড়া, হাতি প্রভৃতি সীমিত কিছু শিল্পকর্মের প্রতিকৃতি ছিল। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের আনন্দ শোভাযাত্রায় শিল্পকর্মের বিচিত্রতা বৃদ্ধি পায়, সে বছর নানা ধরনের শিল্পকর্মের প্রতিকৃতি শোভাযাত্রায় স্থান করে নেয়। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে চারুকলার শোভাযাত্রা জনপ্রিয়তায় নতুন মাত্রা লাভ করে। কেননা, সে বছর চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিল্পীদের উদ্যোগে হওয়া সেই শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর, বিশিষ্ট লেখক, শিল্পীরা-সহ সাধারণ নাগরিকরা অংশ নেন। একই সঙ্গে সে বছর মঙ্গল শোভাযাত্রায় স্থান পায় বিশালাকায় হাতি, বাঘের প্রতিকৃতির কারুকর্ম। সে বছর কৃত্রিম ঢাক আর অসংখ্য মুখোশখচিত প্ল্যাকার্ডসহ মিছিলটি নাচে-গানে উৎফুল্ল পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে আনন্দ শোভাযাত্রার সম্মুখে রং-বেরঙের পোশাক পরিহিত ছাত্র-ছাত্রীদের কাঁধে ছিল বিরাট আকারের কুমির। বাঁশ এবং বহু বর্ণের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল কুমিরটি। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের জন্য ‘১৪০০ সাল উদযাপন কমিটি’ গঠিত হয়। সে বছর ওই কমিটির উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়েছিল। শোভাযাত্রার আকর্ষণ ছিল বাঘ, হাতি, ময়ূর, ঘোড়া, বিভিন্ন ধরনের মুখোশ। চারুকলার সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় দিয়ে শিশু একাডেমি হয়ে পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হয়েছিল।
বাংলাদেশের শহরকেন্দ্রিক নববর্ষ উদ্যাপদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা’ যেহেতু সময়ের পরিক্রমায় নিজের অভিযাত্রা অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হয়েছে সেহেতু তা ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। তাই তো শহরকেন্দ্রিক নববর্ষ উদযাপনের এই ঐতিহ্য বিশ্বঐতিহ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
বাংলা নববর্ষ উদযাপনের শহরকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যে দুটি বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছি তার সূত্রে বলা যেতে পারে বাংলাদেশের শহরকেন্দ্রিক নববর্ষ উদযাপনের আর অনেক বিষয় সম্পর্কে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। আসলে, গ্রামীণ সংস্কৃতির পাশাপাশি শহরকেন্দ্রিক বাংলা নববর্ষ উদযাপনের বিষয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ইতিহাসকে পূর্ণাঙ্গ করে তোলা সম্ভব।
লেখক: নাট্যকার ও গবেষক
[দেশ রূপান্তরে পূর্বে প্রকাশিত]