এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন, দলীয় সমর্থন কিংবা দলীয় প্রতীক দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য স্বতন্ত্রভাবে দলের যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে এবং এ বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু এই নির্দেশনা অমান্য করে দলের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই হতাশ হয়েছেন। তাদের অনেকেই এখন আর নির্বাচন করবেন না বলে জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেকটা গোপনীয়তার সঙ্গে চারটি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীদের দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ছাগলনাইয়া উপজেলায় কাউকে সমর্থন দেওয়া হয়নি। ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ ঐকমত্যে না পৌঁছায় কাউকে সমর্থন দেয়নি জেলা আওয়ামী লীগ।
এর আগে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম গঠন করা হয়। ওই টিমের সদস্যরা শহরের স্টেশন রোডের দলীয় কার্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিবন্ধন ও মতবিনিময় করেন। এতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ২১ জন ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৬ জন নেতা নাম লিখিয়েছেন। নিবন্ধন করতে চেয়ারম্যান পদের জন্য ১০ হাজার ও ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়।
জানা গেছে, সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে শুসেন শীল, ভাইস চেয়ারম্যান পদে শহীদ উল্যাহ খোন্দকার ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোর্শেদা আক্তার, সোনাগাজীতে চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াতুল হক ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহীন গনি, দাগনভুঞায় চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া আক্তার এবং পরশুরাম উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে কামাল মজুমদার, ভাইস চেয়ারম্যান পদে শফিকুল ইসলাম মহিম ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শামসুন্নাহার পাপিয়াকে সমর্থন দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই। তবে তারা নাম প্রকাশ করে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
গত ২২ জানুয়ারি গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের জরুরি বৈঠক শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছেন, ‘আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে আমরা দলের প্রতীক প্রার্থীকে দেব কি না, মনোনয়ন দেব কি না, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওয়ার্কিং কমিটির প্রায় সর্বসম্মত অভিমত যে, এবারকার উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা ব্যবহার করা হবে না।’
ওবায়দুল কাদের আরও বলেছেন, ‘এ নির্বাচনে নেতাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করা হবে। উপজেলায় যেসব নেতারা রয়েছেন তারা নিজেদের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।’
পরে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফেজ আহম্মদ বলেন, ‘তৃণমূলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার স্বার্থে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রতীকেই তারা নির্বাচন করবে। যে কেউ ইচ্ছে করলে প্রার্থী হতে পারবে।’