ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের তেতুলতলায় বাস ও পিকআপের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ জনে। এদিকে এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত বাসের চালক ও হেলপারকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া ওই নারীর নাম পপি আক্তার (২১)। তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপপাত ইউনিয়নের কুমাইল গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল শেখের (২৫) স্ত্রী।
দুর্ঘটনার শিকার হওয়া পিকআপে চরে ইকবালের সঙ্গে পপি এবং তার দেড় বছর বয়সী ছেলে ইরফানও ছিল। দুর্ঘটনায় এরা তিনজনই আহত হন। ইকবাল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যান। পপি আক্তার বুধবার সকাল ৬ টার দিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শিশু ইরফান এখনও চিকিৎসাধীন আছে।
এ ঘটনায় ইকবালের বড় ভাই ইমামুল শেখ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৯৮ ও ১০৫ পাঁচ ধারায় মামলা করেছেন।
ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাসের অজ্ঞাত চালককে আসামি করে এ মামলাটি করা হয়েছে। তিনি বলেন এ দুর্ঘটনায় আহত পপি আক্তার বুধবার সকাল ৬টার দিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
হাইওয়ে পুলিশ মাদারীপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. শাহীনূর আলম বলেন, ঘাতক বাসটির দুইজন চালককে আমরা সনাক্ত করতে পেরেছি। তবে প্রকৃতপক্ষে উত্তরা ইউনিক পরিবহনের দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি কে চালাচ্ছিলেন তাকে সনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, চালককে সনাক্ত করা হলে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি নেই সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের দিগনগর তেঁতুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা-মাগুরাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে আলফাডাঙ্গা-ফরিদপুরগামী পিকআপের মুখামুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ ১৪ জন নিহত হন।