তীব্র গরমে অস্থির জনজীবন

তীব্র গরমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের জনজীবন অস্থির হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে আগামী আরও দুই দিন বেশী গরম অনুভূত হবে। ঢাকায় গত মঙ্গলবার বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৩ শতাংশ, গতকাল বুধবার তা হয় ৮৭ শতাংশ এবং আজ বৃহস্পতিবার আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৯ শতাংশে। সাধারণত বাতাসে আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্প বেড়ে বেড়ে গেলে গরমে অস্বস্তিকর অনুভূতি বেড়ে যায়।

এদিকে গরম বৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একান্ত প্রয়োজন না হলে দিনের বেলা বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকেই। তবে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের গরম কিংবা রোদ্দুর থেকে বেঁচে থাকার উপায় নেই। এরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভেজে কিংবা শীতে কাঁপতে কাঁপতে আহার জুটাতে কাজের সন্ধানে রাস্তায় বের হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক সুরত আলীর সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, রিকশার প্যাডেল ঘুরাতে পারি না, ক্লান্ত হয়ে যাই। দুপুরের রোদ মনে হয় কামড় দিয়ে ধরে। এক ট্রিপ দিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আরেক ট্রিপ খুঁজি। আরেক রিকশাচালক রফিক উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে ৭ গ্লাস শরবত খেয়ে ফেলছি। তাও গরম কমছে না। এভাবে গরম থাকলে তো না খেয়ে মরতে হবে। আমাদের আয় রোজগার কমে গেছে।

বাংলামোটর এলাকার বাসিন্দা আকাশ বলেন, বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। এতে বাইরে বের হতে ইচ্ছে হয় না। একটু হাঁটলেই ক্লান্তি লাগে। বাসার ছাদে পানির রিজার্ভ ট্যাংক আছে সেখানে পানি অনেক গরম হয়ে যায়। গোসল করতে গেলে মনে হচ্ছে গা পুড়ে যাচ্ছে। গোসলের পানি ঠান্ডা রাখতে ফ্রিজের পানি বা আইস ব্যবহার করি। কিন্তু এতে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। 

তিনি বলেন, ঈদের ছুটি শেষে এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে ফলে বাচ্চারা বাইরে যাচ্ছে। এতে তাদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

রাজধানীর ময়মনসিংহ গলিতে ভ্যানে করে সবজি করেন আনসার মিয়া। তিনি বলেন, কারওয়ান বাজারের আড়ত থেকে সকালে সবজি কিনে এনেছি। অথচ বিকেল না হতেই সব সবজি নষ্ট মনে হচ্ছে। মানুষ সবজি দেখে বলে এটা আগের দিনের, নিতে চায় না। সবজি তাজা রাখতে বারবার পানি দিতে হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশে যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা আজ কিছুটা কমতে পারে। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে। কিন্তু আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় গরমের কষ্ট কমার সম্ভাবনা নেই। আগামী তিন-চার দিন এমন অবস্থা চলমান থাকতে পারে।