রাজশাহীর পবা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা বদলি ও দায়িত্বগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। মূলত মন্ত্রণালয় থেকে এক সপ্তাহে একই পদে দুইবার বদলির আদেশ নিয়ে তৈরি হয়েছে এই জটিলতা। এই জটিলতায় বর্তমানে একই পদে দুজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। সবশেষ এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুর্গাপুরের মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুনকে। তিনি দুর্গাপুর ছেড়ে এরই মধ্যে পবায় যোগদান করতে এলে তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
বর্তমানে পবা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাবিবা সুলতানা। তিনি বদলির আদেশ পেয়ে গত ২ এপ্রিল বড়াইগ্রামের মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা পদ ছেড়ে পবায় যোগ দেন। এর পরদিনই আবার তাকে পবা থেকে বদলি করা হয়েছে দুর্গাপুরে। তবে তিনি এখনো পবাতেই অবস্থান করছেন। অন্যদিকে দুর্গাপুর ছেড়ে পবায় এসেও দায়িত্ব না বুঝে পেয়ে নিজের কক্ষে ঢুকতে পারছেন না ফাতেমা খাতুন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর ধরে পবায় মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন শিমুল বিল্লাহ সুলতানা। গত ২৮ মার্চ শিমুল বিল্লাহকে নাটোরের বড়াইগ্রামে বদলি করা হয়। একই আদেশে বড়াইগ্রামের মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা খাতুনকে পবা উপজেলায় বদলি করা হয়। এই আদেশের পরপরই এই দুই কর্মকর্তায় নিজ নিজ নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। কিন্তু এক সপ্তাহ না যেতেই ৩ এপ্রিল আরেক আদেশে নতুন বদলি করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এই আদেশে পবা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা খাতুনকে রাজশাহীর দুর্গাপুরে পদায়ন করা হয়। আর দুর্গাপুরের মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুনকে পবায় বদলি করা হয়।
এদিকে, ঈদের পর অফিস খুললেও পবা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়টি কয়েকদিন ধরে তালাবদ্ধ। বুধবার এই অফিসে গিয়ে দায়িত্ব বুঝে না পেয়ে বাইরে বসে অপেক্ষা করেন ফাতেমা খাতুন। তিনি বলেন, গত ৩ এপ্রিল তাকে পবা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এরপর ৮ এপ্রিল তিনি জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে যোগদান করেছেন। কিন্তু পবায় এসে দেখেন অফিস তালাবদ্ধ। বদলি হওয়া কর্মকর্তা হাবিবা খাতুন তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। তাই গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে তিনি নিজেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অফিস তালাবদ্ধ থাকায় বাইরে বেঞ্চে বসে কাজকর্ম শুরু করেছেন তিনি।
ফাতেমা খাতুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, বৃহস্পতিবারও তিনি অফিসে ছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব বুঝে পাননি। এখানকার কর্মকর্তা হাবিবা খাতুনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে জানিয়ে ফাতেমা খাতুন বলেন, তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন না বলেই ঘরে তালা মেরে রাখছেন বা অফিসে আসছেন না।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাবিবা সুলতানার মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি। তবে এর আগে বুধবার স্থানীয় সংবাদকর্মীদের তিনি বলেন, পবায় বদলি হয়ে আসার এক সপ্তাহের মধ্যে আমাকে দুর্গাপুরে বদলি করা হয়েছে। দুর্গাপুরে আমার বাবার বাড়ি, শ্বশুরবাড়িও সেখানে। তাই ওইখানে আমি কাজ করতে চাই না। তিনি পবাতেই দায়িত্ব পালন করবেন বলে তার আগ্রহের কথা জানান।
রাজশাহী মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শবনম শিরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পবায় কোনো জটিলতা হয়নি বলে দাবি করেন।
দায়িত্ব বুঝে না পেয়ে অফিসের বাইরে বসে একজন কর্মকর্তা কাজ করছে এমন তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবশেষ বদলি আদেশ অনুযায়ী ফাতেমা খাতুনকেই পবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আমার কাছে এসে যোগদানও করেছেন। তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে একটু সময় লাগতেই পারে কারণ এটা তো স্ট্যান্ড রিলিজ না। কিন্তু তিনি অফিসের বাইরে বসে কাজ করা দেখিয়ে সিনক্রিয়েট করার চেষ্টা করছেন। এটা ঠিক নয়।