ফটিকছড়িতে জমজমাট জুয়ার আসর, মাদকও দেদার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির একাধিক স্থানে সারাদিন চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। এসব জুয়ার আসর ঘিরে দৈনিক লাখ লাখ টাকার লেনদেন হওয়ার খবর এখন ফটিকছড়ি জুড়ে। ঈদকে টার্গেট করে বেশি রমরমা হয় জুয়া বাণিজ্যের সিন্ডিকেট। পাশাপাশি এসব জুয়ার আসর ঘিরে সমানতালে চলছে মাদক সেবন ও বিকিকিনি। এসব নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কতিপয় নেতার যোগসাজশের কথা উঠে আসছে।

জানা গেছে, ফটিকছড়ি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবকেরানির পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি, উত্তর রাঙ্গামাটিয়া এলাকার আদর্শ গ্রামসংলগ্ন চা দোকান, নাজিরহাট পৌরসভার কুতুবশাহ বাড়ির  মেহগিনি বাগান, শাহ চৌমুহনী সংলগ্ন হালদা নদীর চর, সুন্দরপুর ইউনিয়নের আজিম চৌধুরী ঘাট ও হাড়িঘাটা এলাকা, পাইন্দং ইউনিয়নের টিলাপাড়া এলাকার ইদ্রিসের দোকান, ভূজপুর ইউনিয়নের মীর্জারহাট সংলগ্ন হালদা নদীর পাড়, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের বড়ুয়া পাড়া এলাকার মিল্টনের দোকান, খিরাম ইউনিয়নের মাজার সংলগ্ন সর্তাখালের তীরসহ কয়েকটি নির্জন স্থানে নিয়মিত বসে জমজমাট জুয়ার আসর। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্পটগুলোতে তিন থেকে চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলায় মত্ত হয়ে উঠে জুয়াড়িরা।

গত বুধবার বিকেলে জুয়া খেলার হটস্পট হিসেবে পরিচিত নাজিরহাট পৌরসভার শাহ চৌমুহনীর পশ্চিম পাশে হালদার নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, সম্পূর্ণ ঝোপের ভেতরে ত্রিপল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল আস্তানা। আস্তানাটি এমনভাবে গড়া হয়েছে বাইরে থেকে বুঝার উপায় নেই এখানে নিয়মিত জয়া খেলার আসর বসে। দেখা গেছে, আস্তানার চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তাস। পাশাপাশি পড়ে থাকতে দেখা যায় মদ, গাজা ও ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন উপকরণ।

এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জুয়াড়িরা নিরাপদ স্থান হিসেবে নির্জন স্থান ও পরিত্যক্ত জায়গা বেছে নেয়। এসব জুয়ার আসর ঘিরে রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টার থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসি মীর মো. নুরুলহুদা বলেন, ‘জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান সব সময় চলমান। অনেক সময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে জুয়ার আসর বসানো হয়। খোঁজ নিয়ে এসব জুয়ার আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।’