বাংলা সনের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় শিক্ষালয়ে, পাড়া-মহল্লায়। বছরের প্রথম দিনে ব্যবসায়ীরা আয়োজন করেন হালখাতা। থাকে মিষ্টি ও পিঠা-পায়েস দ্বারা অ্যাপায়নের ব্যবস্থা। ছোটদের জন্য দিনটি বিশেষ আনন্দের। মেলায় গিয়ে তারা নাগরদোলায় চড়ে, পুতুল কেনে, মিঠাই কেনে। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে মিঠাইও আয়োজন করেছে ছড়ায় ছড়ায় নববর্ষ সংখ্যা। শুভ নববর্ষ!
পহেলা বৈশাখ
অপু বড়ুয়া
বটতলাতে তাকডুমাডুম
উঠল বেজে ঢাক
আজ আমাদের বর্ষবরণ
পহেলা বৈশাখ।
বকুলতলায় গানের আসর
ছুটছে সবাই তাই
যাচ্ছে মেলায় ছোট্ট খুকু
হাত ধরেছে ভাই।
বসবে মেলা রমনা মাঠে
তাই তো কলরব
বেলুন বাঁশি মাটির পুতুল
যাচ্ছে পাওয়া সব।
পুতুল নাচের মজার খেলা
কী মহা হাঁকডাক
আজ আমাদের বর্ষবরণ
পহেলা বৈশাখ।
বৈশাখ এলো
নূরজাহান নীরা
বৈশাখ এলো ধরার মাঝে
নতুন বছর শুরু
আসমান জমিন মেঘগর্জনে
কাঁপে দুরু দুরু।
মাঝে মাঝে কালবৈশাখীর
তা-বে দেয় হানা
বৈশাখের এই ভয়ংকর রূপ
আছে সবার জানা।
গাছে গাছে পাকা ফলের
মিষ্টি ম ম গন্ধে
প্রকৃতির এই মধু মেলায়
মন উড়ে যায় ছন্দে।
ফুলে ফুলে ছেয়ে ওঠে
ঐ দিগন্তের পার
বৈশাখ মানে বহুরূপী
নেই তুলনা যার।
এসে গেছে বৈশাখ
ওলি মুন্সী
এসে গেছে বৈশাখ
ভেসে গেছে রংশ্ব
চারদিকে ঢোল বাজে
ঢং ঢং ঢং।
এসে গেছে বৈশাখ
পেকে গেছে ধানশ্ব
কৃষকের হাসি দেখে
কৃষানির গান।
এসে গেছে বৈশাখ
আম পাকা ফলশ্ব
আকাশেতে কালো মেঘ
নেমে এলো ঢল।
বোশেখ মেলা
সুব্রত চৌধুরী
বোশেখ মেলা, বোশেখ মেলা, পড়ে গেছে সাড়াশ্ব
ঢোলের তালে বাঁশির সুরে জেগে ওঠে পাড়া।
বোশেখ মেলা, বোশেখ মেলা, ম-া মিঠাই গালে
তাক ডুমা ডুম ঢাকের তালে হাওয়া খুশির পালে।
বোশেখ মেলা, বোশেখ মেলা, লাটিম লাটাই হাতে
নদীর পাড়ে গাঁয়ের খোকা ইচ্ছেমতো মাতে।
বোশেখ মেলা, বোশেখ মেলা, খুশির দিনের আঁচে
ডুগডুগিটার তালে বানর তিড়িংবিড়িং নাচে।
বোশেখ মেলা, বোশেখ মেলা, বাবার কাছে বায়না
‘দাও না কিনে আলতা, ফিতে, রেশমি চুড়ি, আয়না’।
বৈশাখ
সফিউল্লাহ লিটন
চৈত্র শেষে বৈশাখ এলো
উঠলো বেজে ঢোল,
ডালে ডালে ফুটলো হেসে
নানান রঙের ফুল।
গাজনতলীর মেলায় শুনি
জারি-সারি গান,
পুতুলনাচ আর নাগরদোলা
কেড়ে নিল প্রাণ।
বৈশাখেরই রুদ্রঝড়ে
ভয়ে কাঁপে বুক,
বাইরে থেকে ঘরে ফিরে
আসে গাঁয়ের লোক।
ঝড়ের পরে আমরা যখন
আম কুড়োতে যাই
মনে তখন আনন্দ আর
খুশির সীমা নাই।
বৈশাখ এলো
রঙিন বেশে
নকুল শর্ম্মা
বৈশাখ এলো রঙিন বেশে
হাজার ঘুড়ির মেলায়,
বৈশাখ এলো খোকাখুকুর
নাগরদোলার খেলায়।
বৈশাখ এলো মাঠের পরে
বট তমালের ছায়ায়,
বৈশাখ এলো বছর ঘুরে
নতুন ঋতুর মায়ায়।
বৈশাখ এলো দুঃখ মুছে
আবার নতুন আশায়,
বৈশাখ এলো উল্লাসেতে
প্রতি পাড়ায় পাড়ায়।
বৈশাখ এলো লাগলো নাচন
গাছের পাতায় পাতায়,
বৈশাখ এলো সব দোকানির
নতুনের হালখাতায়।
বৈশাখ এলো পান্তা ইলিশ
মাটির সানকি থালায়,
বৈশাখ এলো আনন্দেতে
মনের গ্লানি তাড়ায়।
কালবৈশাখী ঝড়
সারমিন চৌধুরী
বছর ঘুরে বৈশাখ এলো
আনন্দে বাজে বীণ,
গুড়ুম গুড়ুম আকাশ ডাকে
কালবৈশাখী দিন।
সাগর কূলে রোদ হেসেছে
নাচছে জলের পুঁটি,
বৈশাখ এলো নতুন করে
আনন্দে লুটোপুটি।
মাঠ হাসছে ঘাট ভাসছে
আমন ধানের ঘ্রাণ,
হাওয়ায় ঝরে আম কাঁঠাল
পাখির কলতান!
কালবৈশাখী ঝড়ের সময়
ব্যাঙের ঘ্যাঙর ডাক,
কিলবিল করছে কই শিং
সাদা বক তোলে হাঁক।
খুকির নববর্ষ
হানিফ রাজা
আসলো আবার পয়লা বৈশাখ
একটি বছর পরে,
নতুন বছর জাগায় আশা
নতুন ভোরের তরে।
ঢোল বাজেরে মাদল বাজে
বাজে বাঁশের বাঁশি,
আঁধার কেটে আসে আলো
রাঙা রবির হাসি।
নববর্ষে পল্লী নগর
উৎসবেতে মাতে,
খোকাখুকি চড়ক মেলায়
যায় যে বাবার সাথে।
মেলায় গিয়ে কচি খুকি
নাগরদোলায় দোলে,
পুতুল কেনার বায়না ধরে
উঠে বসে কোলে।
খুকি খাবে পান্তা ইলিশ
মনে অনেক খুশি,
স্বপ্ন এবার হবে পূরণ
আশা মনে পুষি।