আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, তামাকের কারণে প্রতি বছর মৃত্যু বাড়ছে। গত তিন বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তুলনায় সিগারেটের দাম বাড়েনি। ফলে সব ধরনের তামাপণ্যের দাম বাড়িয়ে জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত আসন্ন অর্থবছরে তামাক কর ও মূল্য-সংক্রান্ত বাজেট প্রস্তাব শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘নিত্যপণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য ক্রমান্বয়ে সস্তা হয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। তামাকের কারণে অকাল মৃত্যু, অসুস্থতা, পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এসব বিবেচনায় আসন্ন বাজেটে সব ধরনের তামাপণ্যের দাম বাড়াতে হবে।’
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘বর্তমানে ৭৫ শতাংশ সিগারেট ব্যবহারকারী নিম্নস্তরের সিগারেটের ভোক্তা। অথচ এই স্তরে সম্পূরক শুল্কহার মাত্র ৫৮ শতাংশ, এটা বাড়িয়ে কমপক্ষে ৬৩ শতাংশ করা হলে সিগারেটের ব্যবহার কমবে এবং রাজস্ব আয় বাড়বে। এই বর্ধিত রাজস্ব চলমান আর্থিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’
সংবাদ সম্মেলনে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত সাতটি মহানগরীর নিত্যপণ্যের গড় খুচরা মূল্য বিশ্লেষণ তুলে ধরে লিখিত বক্তব্যে প্রজ্ঞার গণমাধ্যম সমন্বয়কারী মেহেদী হাসান বলেন, ‘২০২১ সালের (৪ জুলাই) তুলনায় ২০২৩ সালে (৪ জুলাই) খোলা চিনি, আলু, খোলা আটা, ডিম, সয়াবিন তেল ও গুঁড়ো দুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম গড়ে ২৭ থেকে ৮৯ শতাংশ বেড়েছে।
অথচ একই সময়ে বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে মাত্র ৬ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত।’
তিনি বলেন, ‘তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতি বছর ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, যা একই সময়ে তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের (২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা) চেয়ে অনেক বেশি।’