ভারত-চীন দ্বন্দ্বের মধ্যেও মালদ্বীপে নির্বাচনে ভোটার বেশি

মালদ্বীপে চলছে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। দেশটির পার্লামেন্ট পিপলস মজলিশের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা ঠিক করতে রবিবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ।

এই নির্বাচনকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজুর জন্য বড় পরীক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তিনি চীনপন্থী অবস্থান নিয়েছেন এবং গত সেপ্টেম্বরে ক্ষমতায় আসার পর দ্বীপ দেশকে দীর্ঘদিনের মিত্র ভারত থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। মালদ্বীপের পার্লামেন্ট নির্বাচন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত ও চীন। দ্বীপ দেশটিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তারা।

এবার দেশটির ৯৩টি সংসদীয় আসনে ৩৬৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ৬টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র দলের প্রার্থীদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে ভোট দিচ্ছে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৬৬৩ জন ভোটার। দেশটির ৬০২টি কেন্দ্র ও দেশের বাইরের দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হবে। রাতের মধ্যেই নির্বাচনের ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ৬৩.৭৩%

নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এদিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার ৪০৬ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন, শতাংশের হিসাবে যা ৬৩.৭৩%। এর মধ্যে ৯৩ হাজার ১৭৬ জন পুরুষ ও ৮৮ হাজার ২৩০ জন নারী। এক লাখ তিন হাজার ২৫৭ জন ভোটার এখনো ভোট দেয়নি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে চীনপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের প্রতিনিধি হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মুইজু। দুর্নীতির অভিযোগে ইয়ামিনের ১১ বছরের কারাদণ্ড হয়। তবে গত সপ্তাহে আদালত সাজা বাতিল করলে তিনি মুক্তি পান।

চলতি মাসে যখন পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রচারণা চলছে, তখন মালদ্বীপে অবকাঠামো নির্মাণে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির সঙ্গে বড় চুক্তি করেছেন মুইজু। তার প্রশাসন মালদ্বীপে থাকা ৮৯ জন ভারতীয় সেনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। মালদ্বীপের বিশাল সমুদ্রসীমায় টহল দিতে ভারতের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া উড়োজাহাজ পরিচালনা করেন এসব সেনা।

মালদ্বীপের বর্তমান পার্লামেন্টে মুইজুর পূর্বসূরী ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহর ভারতপন্থী দল এমডিপির (মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি) আধিপত্য আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুইজুর এক জ্যেষ্ঠ সহকারী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, রবিবারের নির্বাচনে দলগুলোর প্রচার-প্রচারণার পেছনে ভূরাজনীতির একটি বড় ধরনের প্রভাব আছে। ভারতীয় সেনাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে তিনি (মুইজু) ক্ষমতায় এসেছেন এবং তিনি এ নিয়ে কাজ করছেন। ক্ষমতায় আসার পর থেকে পার্লামেন্ট তাকে সহযোগিতা করছে না।

মুইজু প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিরোধী পক্ষের আইনপ্রণেতারা তার মনোনীত তিন ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে দেননি। মুইজু প্রস্তাবিত কয়েকটি ব্যয় বিল পাসেও অস্বীকৃতি জানান তারা। 

সূত্র: এএফপি, আল জাজিরা ও সান এমভি