ঈদুল ফিতর আর বাংলা নববর্ষ মিলিয়ে এবার দীর্ঘ ছুটি ছিল। এমন ছুটিতে গ্রামে যাওয়ার সুযোগ কে হাতছাড়া করে? তবে উৎসবেও আমাদের একমাত্র উৎকণ্ঠা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। পৃথিবীর প্রত্যেক জনপদেই উৎসব পালিত হয়। কিন্তু কোনো নাশকতা ছাড়া শুধুমাত্র সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষ হতাহতের নজির বোধ হয় অন্য কোথাও নেই।
ঈদের ছুটি কাটিয়ে শহরে ফেরার পথে বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলাম। এর মধ্যে গাড়ির উচ্চগতি, ওভারটেক, ঝাঁকুনি কিংবা হার্ডব্রেক অবচেতনে ডেকে আনছিল মৃত্যুভয়। তবে শেষমেশ নিরাপদেই ফিরতে পেরেছি। তবে কারো কারো কপালে সে ভাগ্য হয়নি। এবারের ঈদযাত্রায়ও সড়ক দুর্ঘটনার খবর গণমাধ্যমে এসেছে প্রতিদিনই।
গত ১৬ এপ্রিল ফরিদপুরের কানাইপুরে বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ১৭ এপ্রিল ঝালকাঠির গাবখান সেতুর টোল প্লাজায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিমেন্টবাহী একটি ট্রাকের ধাক্কায় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন গাড়ির আরও ১৪ আরোহী নিহত হয়। দুর্ঘটনায় নিহতের এ তালিকায় যোগ হয়েছে তরুণ সংগীতশিল্পী মতিউর রহমান হাসান ওরফে পাগল হাসানের নাম। ১৮ এপ্রিল সকালে কনসার্ট থেকে ফেরার পথে সুনামগঞ্জের ছাতক পৌর শহরের সুরমা সেতুর কাছে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সঙ্গীসহ নিহত হয়েছেন পাগল হাসান।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য বলছে, ঈদযাত্রা শুরুর দিন (৪ এপ্রিল) থেকে ১৮ এপ্রিল কর্মস্থলে ফেরা পর্যন্ত ১৫ দিনে সড়কে ৩৯৯টি দুর্ঘটনায় ৪০৭ জন নিহত ও এক হাজার ৩৯৮ জন আহত হয়েছে। এই সময়ে রেলপথে ১৮টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে দুটি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছে। সবমিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌ পথে ৪১৯টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত ও এক হাজার ৪২৪ জন আহত হয়েছে।
অন্যদিকে গত বছর ঈদুল ফিতরে ৩০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৮ জন নিহত ও ৫৬৫ জন আহত হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৩১.২৫ শতাংশ, প্রাণহানি ২৪.০৮ শতাংশ ও আহত ১৪৭.৪৩ শতাংশ বেড়েছে। আর এসব দুর্ঘটনায় যথারীতি মোটরসাইকেলই শীর্ষে রয়েছে। এবারের ঈদে ১৯৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৫ জন নিহত ও ২৪০ জন আহত হয়েছে; যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৯.৬২ শতাংশ, নিহতের ৪০.৫৪ শতাংশ এবং আহতের ৩০.৩৭ শতাংশ প্রায়।
যদিও সব দুর্ঘটনার খবর গণমাধ্যমে আসে না। তাই প্রকৃত দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আট বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৬০ হাজার ৮৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় তিন হাজার ৮৬২ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে চার হাজার ৪৭৫ জনের। অর্থাৎ শুধুমাত্র ঈদের মৌসুমেই সড়ক দুর্ঘটনায় ৭.৩৫ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বলছে, গত ১১ এপ্রিল ঈদের দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে ঈদের আগে-পরে ছয় দিন এবং ঈদের দিন মিলিয়ে সাত দিনে সারা দেশে মোট ১১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২২ জন নিহত এবং আহত হয়েছে আরো অন্তত ১৯৫ জন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩৬ শতাংশের বেশি জাতীয় মহাসড়কে, ৩৪ শতাংশের বেশি আঞ্চলিক সড়কে, ১৮ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে এবং প্রায় ১১ শতাংশ শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমান সময়ে মোট দুর্ঘটনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘটে মোটরসাইকেলে। যার মধ্যে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৫.১১ শতাংশ, মুখোমুখি সংঘর্ষে ২১.২৫ শতাংশ, অন্য যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ধাক্কা বা চাপায় ২৩.৬২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই উঠতি বয়সী তরুণ।
স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক উন্নয়ন হয়েছে। আর বর্তমান সরকারের সময়ে যে পরিমাণ নতুন রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার হয়েছে তা অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে। ১৯৭১ সালে মাত্র তিন হাজার ৬০০ কিলোমিটারের সড়ক দিয়ে শুরু করা বাংলাদেশে বর্তমানে তিন লাখ ৭৫ হাজার কিলোমিটারে সড়ক রয়েছে। এরমধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক মিলিয়ে ২২ হাজার কিলোমিটার মহাসড়ক আছে।
এসব সড়ক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে হাইওয়ে পুলিশের ৭৩টি ইউনিটের প্রায় তিন হাজার সদস্য। ইতিমধ্যে দেশে অনেকগুলো মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, ওভারপাস, আন্ডারপাস, ওভারব্রিজ নির্মিত হয়েছে। দুই লেনের মহাসড়ক চার লেনে পরিণত হয়েছে আর চার লেনগুলো আট লেনে পরিণত হবে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ফলে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এত এত অবকাঠামো উন্নয়ন, জনবল মোতায়েন এবং পরিবহন আইন সংস্কার সত্ত্বেও সড়কে শৃঙ্খলার অভাব রয়ে গেছে, যা রোজার ঈদ আর কোরবানির ঈদে প্রকট আকার ধারণ করে।
ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়: ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ভাঙাচোরা সড়ক, অদক্ষ চালক, দুর্নীতি, ট্রাফিক তদারকির অভাব, অপ্রশস্ত সড়ক, বেপরোয়া গতি, মহাসড়কে মোটরসাইকেল, তিন চাকার গাড়ি চলাচল ইত্যাদি। পরিবহনের তুলনায় যাত্রী কয়েকগুণ বৃদ্ধি ও পরিবহন মালিকের অতিমুনাফার লোভে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অদক্ষ চালক রাস্তায় নামানো হয়। সড়ক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কর্তব্যে অবহেলা ও দুর্নীতি সড়ক শৃঙ্খলার অন্তরায়। এমনকি মহাসড়কে অনভ্যস্ত শহুরে সিটি বাসগুলো সড়কে চাপ তৈরি করে। আর অধিক ট্রিপ পাওয়ার আশায় বিরতিহীন ও বেপরোয়া গতিতে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে অসচেতন যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে বাস, ট্রেন ও লঞ্চের ছাদে ভ্রমণের বহু পুরনো অভ্যাস তো আছেই। আর যথাযথ রাষ্ট্রীয় তদারকিরও ঘাটতি আছে। তবে এসব ছাপিয়ে সাম্প্রতিককালে অগণিত মোটরসাইকেল সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। জ্যাম এড়াতে মহাসড়কে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি যাওয়া, উড়তি তরুণদের বেপরোয়া গতি, নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরিধান না করার কারণে মূলত মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টে হতাহত বাড়ছে। এবার ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক ও দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) তথ্যমতে, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শীর্ষে বাংলাদেশ। প্রতি ১০ হাজার মোটরসাইকেলের মধ্যে বাংলাদেশে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে ২৮ দশমিক ৪টি। এসব দুর্ঘটনার ৭৪ শতাংশই মফস্বলে ঘটে। এর কারণ তদারকির অভাব। এছাড়া মফস্বলের যাত্রীরা মহাসড়কে বেশি যাতায়াত করার ফলে ৭৪ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার ৬৯ শতাংশই মহাসড়কে ঘটে। গবেষণায় দেখা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ হেলমেট না পরার কারণে এবং ১২ শতাংশ ত্রুটিযুক্ত হেলমেট পরার কারণে মারা গেছেন।
ছুটির আনন্দ বিষাদে পরিণত হওয়ার এ দায় কার? এর উত্তর ইতিমধ্যেই পরিষ্কার। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পর স্মার্ট বাংলাদেশের পথে হাঁটছে দেশ, এমন দেশে অনিরাপদ সড়ক বেমানান। দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার হার ও সরকারি-বেসরকারি খাতে দক্ষ জনবল বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সড়ক দুর্ঘটনার মতো নিয়ন্ত্রণযোগ্য অভিশাপ থেকে বের না হওয়ার কোন কারণ দেখছি না।
বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৫ হাজার ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে প্রতিদিন সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০ জন প্রাণ হারায়। অর্থাৎ বছরে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ হাজার ৮০০ জন।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বছরে ১২ হাজার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ২০ হাজার মানুষ প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে। তাদের মধ্যে ১২ হাজারের বেশি ১৭ বছরের কম বয়সী শিশু। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২২০ জন মানুষ পঙ্গু হচ্ছে কেবল সড়ক দুর্ঘটনায়।
অপরদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দাবি, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় জিডিপিতে ক্ষতি ৫.৩ শতাংশ। আতংকের বিষয় হলো, দেশের কর্মক্ষম ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে। বুয়েটের এআরআই হিসাব বলছে, গত তিন বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা।
যদিও মনুষ্যসৃষ্ট সড়ক দুর্ঘটনা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন কিছু নয়। সবগুলো উপায় ইতিমধ্যে আলোচিত হয়েছে। এখন দরকার যথাযথ উদ্যোগ ও এর বাস্তবায়ন। সমাধানের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ফিটনেস, কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া সকল পরিবহন রাস্তায় নামানো ঠেকাতে হবে। মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে প্রশাসনকে। পাশাপাশি মালিকপক্ষের অতিমুনাফার মানসিকতা পরিহার এবং যাত্রীসাধারণের সচেতনতা জরুরি।
দ্বিতীয়ত, রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঈদের সময় যাত্রী কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যার চাপ সামলানোর মতো পর্যাপ্ত পরিবহন দেশে নেই। তাই সব জেলা-উপজেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় এনে এবং রেললাইন ও কোচ বৃদ্ধি করে সড়কের ওপর চাপ কমিয়ে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
তাছাড়া মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, সিএনজি অটোরিকশার মত ক্ষুদ্র যানবাহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং যথাযথ তদারকি করতে হবে। তবে মোটরসাইকেলই যেহেতু অন্যতম প্রধান সমস্যা, তাই এসব উঠতি তরুণদের সচেতন করতে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অভিভাবক মহলকে সম্পৃক্ত করে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া যায়। পাশাপাশি বাড়তি সিসির মোটরসাইকেল আমদানি নিষিদ্ধ করা উচিত। আর সড়ক মেরামত, সম্প্রসারণ, মহাসড়কগুলো ক্রমান্বয়ে শতভাগ চার লেন থেকে আট লেনে উন্নীত করার বিকল্প নেই। এসবের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষ জনবল দিয়ে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রণয়ন করা সময়ের দাবি। এই ব্যবস্থায় অত্যাধুনিক ক্যামেরার মাধ্যমে গাড়ির গতিবিধি নজরদারি এবং স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল সিস্টেম চালু করে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা যাবে। আর চালক-হেলপারদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, ঈদসহ সারাবছর নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে পরিবহন চালক, সহকারী, মালিক, যাত্রী, হাইওয়ে পুলিশ এবং অবশ্যই সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। এখানে সবার দায়িত্ব থাকলেও মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে রাষ্ট্রকে। বাকিরা অসচেতন কিংবা অসতর্ক হতে পারে, ঠিক সে জায়গায় রাষ্ট্র সবাইকে সঠিক পথ দেখাতে এবং চালাতে পারে। উন্নত সড়ক, যুগোপযোগী আইন, পর্যাপ্ত জনবল, প্রযুক্তি ও শিক্ষিত জনগণ সব আমাদের আছে। অভাব শুধু যথাযথ নিয়মকানুন মেনে চলার মানসিকতার। আর সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া দুর্নীতি তো আছেই। তাই আইন মানার মানসিকতা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দুর্নীতি বিরোধী অবস্থানই পারে স্মার্ট ও নিরাপদ সড়ক উপহার দিতে।
লেখক: বিভাগীয় প্রধান, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ