ইসলাম শ্রমের মর্যাদা দিয়েছে। শ্রমিকের মর্যাদা দিয়েছে। কারণ শ্রম ছাড়া পৃথিবীতে কোনো কিছুই অর্জন করা যায় না। শ্রমই হলো সব উন্নয়ন ও উৎপাদনের চাবিকাঠি। যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী, সে জাতি তত বেশি উন্নতি করতে পারে। শ্রম আল্লাহ প্রদত্ত মানবজাতির জন্য এক অমূল্য শক্তি ও সম্পদ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে শ্রমের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে।’ (সুরা বালাদ ৪)
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে মানুষ যত বেশি কর্তব্যনিষ্ঠ, তার সফলতা তত বেশি। শ্রম বা কাজ হলো নবীদের সুন্নত। প্রত্যেক নবীই জীবিকা নির্বাহের জন্য কোনো না কোনো কাজ করেছেন। তারা কাজ করে উম্মতকে শ্রমের মর্যাদা সম্পর্কে বুঝিয়েছেন। যেমন : হজরত আদম (আ.) কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। হজরত নুহ (আ.) কাঠের কাজ জানতেন, হজরত দাউদ (আ.) বর্ম প্রস্তুত করতেন, হজরত ইদ্রিস (আ.) দরজির কাজ করতেন, হজরত শুয়াইব (আ.) ও হজরত সালেহ (আ.) ব্যবসা করতেন, হজরত মুসা (আ.) মেষ চরাতেন। হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ দুনিয়ায় এমন কোনো নবী পাঠাননি, যিনি ছাগল ও ভেড়া চরাননি। তখন সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে রাসুল! আপনিও? রাসুল (সা.) বলেন, হ্যাঁ আমিও মজুরির বিনিময়ে মক্কাবাসীর ছাগল ও ভেড়া চরাতাম।’ (সহিহ বোখারি)
হজরত রাসুল (সা.) শৈশবকাল থেকেই শ্রমপ্রিয় ছিলেন। তিনি শৈশবে চাচার ব্যবসা পরিচালনার জন্য সিরিয়া যেতেন। পরে তিনি শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক শ্রমের মাধ্যমে পৃথিবীতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। শ্রমিকের মর্যাদা সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘শ্রমিকের দেহের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ সাহাবায়ে কিরামও রাসুল (সা.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। যেমন : হজরত আবু বকর, হজরত ওমর ও হজরত উসমান (রা.) ব্যবসা করেছেন। হজরত আলী (রা.) বিনিময়ের মাধ্যমে কূপ থেকে পানি ওঠানোর কাজ করতেন। খাব্বাব (রা.) কর্মকার ছিলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) মেষ ও বকরি চরাতেন। আনসার-সাহাবিরা সাধারণত কৃষিকাজ করতেন। আর মুহাজিররা ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। রাসুল (সা.) সব কাজেই সমানভাবে উৎসাহিত করতেন।
হাদিসে এসেছে, হজরত সাদ (রা.) কামারের কাজ করতেন। হাতুড়ি দিয়ে কাজ করতে করতে তার দুই হাত বিবর্ণ ও শক্ত হয়ে গিয়েছিল। এক দিন রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে তিনি করমর্দন করলেন। তখন রাসুল (সা.) সাদ (রা.)-কে হাতের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, হাতুড়ি দিয়ে কাজ করতে গিয়ে এ অবস্থা হয়েছে। রাসুল (সা.) তার হাত চুম্বন করে বললেন, এ হাতকে কখনো জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। (সহিহ বোখারি)
ইসলামে কোনো শ্রেণিবৈষম্য নেই। কোনো শ্রমই ইসলামের দৃষ্টিতে মূল্যহীন নয়। প্রতিটি শ্রমই মর্যাদার। আর কোনো পেশাই ঘৃণিত নয়। বরং পরিশ্রম করাই সর্বোত্তম কাজ। হজরত রাসুল (সা.) খেটে খাওয়া মানুষের মর্যাদা বর্ণনা করে বলেন, ‘শ্রমিক হলো আল্লাহর বন্ধু।’ (কানজুল উন্মাল) শ্রম আমাদের জীবনে এক অপরিহার্য বিষয়। শ্রমকে আল্লাহতায়ালা নিয়ামতের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আমরা যেকোনো ধরনের শ্রম ও পেশাকে সম্মান করব। নিজেরাও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরিশ্রমী হব। মহান আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমিন।