নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়সহ একাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন জেলে। এবার আলোচিত এই মামলায় একদিনে ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের নিয়োগ বাতিলের রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
এদিকে চলমান লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে এই রায়ে বড় ধাক্কা খেল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। নির্বাচনকালীন সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের এ রায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে ফেলেছে ব্যাপক অস্বস্তিতে। গোটা মামলাতেই অভিযুক্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও মন্ত্রী। ফলে অনিবার্যভাবেই এই ইস্যু বিরোধীদের মোক্ষম হাতিয়ার হতে চলেছে।
রায় বের হওয়ার পরেই রাজ্যের সাবেক বিচারপতি এবং বর্তমানে তমলুকে বিজেপির প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রায়কে স্বাগত জানিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
অভিজিত বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে জোচ্চুরি করেছেন। তার পদত্যাগ করা উচিত।’ সোমবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ নিয়োগ দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করছে। সব মিলিয়ে ৩৫০টি মামলা রুজু হয়েছিল এই ঘটনায়।
রায় ঘোষণার শুরুতেই আদালত জানিয়েছেন, প্রতিটি মামলাই আদালতে গ্রহণযোগ্য। এরপর বলা হয়, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিল করা হচ্ছে। এর ফলে বাতিল হচ্ছে ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি। এসএসসি প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা চাকরি পেয়েছেন তাদের সুদসহ বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই অর্থ ফেরত দিতে হবে। বার্ষিক সুদের হার ১২ শতাংশ হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
উল্লেখ্য, এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তার নির্দেশে বহু নিয়োগ বাতিল হয়েছিল। রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী জামিন পাননি। পরে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন তিনি। যা নিয়ে নানা স্তরে বিতর্ক হয়েছে।