‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’ লিখে আনসার সদস্যের 'আত্মহত্যা'

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারী বাসভবনে দায়িত্ব পালনকালে নিজের শটগানের গুলিতে আফজাল হোসেন (২২) নামে এক আনসার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, তিনি নিজেই সুইসাইড (আত্মহত্যা) করেছেন।

সোমবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ইউএনওর বাসভবনের গার্ডরুমে তিনি গুলিতে আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে মারা যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আফজাল বন্দর উপজেলার ইউএনও অফিসের নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে বিকেলে নিজের শটগানের গুলি তার মাথায় লাগে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। নিহত আফজাল চট্রগ্রাম জেলার মীরেরশরাই থানার গজারিয়া গ্রামের মৃত অহিদুর রহমানের ছেলে। ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’ দেয়ালে কলম দিয়ে লিখে গেছেন ওই আনসার সদস্য।

বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিকেল ৪ টার পর অফিসে বসা অবস্থায় বিকট শব্দ পেয়ে তারা ভবনের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে গার্ড রুমে আনসার সদস্য আফজালকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে হাপাতালে পাঠানো হয়। 

তিনি আরও জানান, সে তার কর্তব্য পালনকালে নিজ শর্টগানে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। 

উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, নিহত আফজাল সোনারগা থেকে বদলী হয়ে বন্দরে আজকে প্রথম ডিউটি করছিলেন। বিকেল আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাস ভবনের গার্ড রুমে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনার পুলিশ তার ব্যবহৃত শর্টগান ও গুলির খোসা জব্দ করেছে।

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তিনি নিজেই সুইসাইড (আত্মহত্যা) করেন। তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।