জ্ঞান ও জ্ঞানীর মর্যাদা

‘ইলম’ আরবি শব্দ। এর অর্থ জানা, বুঝা, হৃদয়ঙ্গম করা, জ্ঞান ইত্যাদি। পরিভাষায় ইলম বলা হয় কোনো কিছু সম্পর্কে যাবতীয় তত্ত্ব ও তথ্যানুসারে সম্যক জ্ঞানার্জন করা। আল্লাহতায়ালা রাসুল (সা.)-এর কাছে সর্বপ্রথম ওহি প্রেরণ করে বলেন, ‘ইকরা’ অর্থাৎ পড়ো। এই পড়ার দ্বারাই মানুষের জ্ঞান অর্জিত হয়। জ্ঞান এমন একটি বিষয় যা মানুষকে উচ্চাসনে আসীন করতে পারে। যার দ্বারা মানুষের নামডাক ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবী জুড়ে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘বলো, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান?’ (সুরা জুমার, আয়াত ৯) আল্লাহতায়ালা আরও বলেছেন, ‘আর যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা।’ (সুরা মুজাদালাহ, আয়াত ১১) আল্লাহতায়ালা আরও ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাকে তারা রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। তুমি বলো রুহ আমার প্রতিপালকের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দেওয়া হয়েছে।’ (সুরা ইসরা, আয়াত ৮৫)

জ্ঞান অর্জনের প্রতি গুরুত্বারোপ করে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক নর ও নারীর ওপর দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা ফরজ।’ রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘আমি হলাম জ্ঞানের শহর।’ জ্ঞানীর মর্যাদা সম্পর্কে রাসুল করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আবেদের ওপর আলেমের মর্যাদা হলো সমস্ত তারার ওপর চাঁদের মর্যাদার মতো।’

জ্ঞান অর্জন করার জন্য করতে হয় অনেক কষ্ট, সাধনা ও পরিশ্রম। এই কষ্ট ও সাধনা করে যারা জ্ঞানার্জন করে তারাই পৃথিবী জুড়ে পরিচিতি পায়, পায় জ্ঞানের স্বীকৃতি। জ্ঞানার্জন করার নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই। এজন্য বলা হয়, ‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করো।’ রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দ্বীনি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য যে পথ চলতে থাকে তার জন্য আল্লাহতায়ালা বেহেশতের পথ সহজ করে দেন।’

যে জ্ঞান শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তা প্রকৃত জ্ঞান নয়। এজন্য বলা হয় জ্ঞান হলো ‘যা বক্ষে থাকে, যা ছত্রে থাকে তা নয়।’ রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করেন।’ (সহিহ বুখারি)

জ্ঞানার্জনের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) থেকে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমন হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল বলেছেন, ‘একজন ফকিহ (মুফতি) শয়তানের কাছে হাজার আবেদ (ইবাদাতকারী) থেকেও বেশি ভীতিকর।’ (তিরমিজি)

জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দুনিয়াবি জ্ঞানও অর্জন করা এবং জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ ও ব্যবহার করা। আল্লাহর শিখিয়ে দেওয়া এই দোয়া বেশি বেশি পাঠ করা ‘রাব্বি জিদনি ইলমা’ অর্থাৎ হে প্রভু! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। (সুরা তোহা, আয়াত ১১৪)