তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তানে গিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। তার এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।
তবে রাইসি পাকিস্তানে সফরে থাকাকালীনই ইরানের সাথে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে গেলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পরার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার পাকিস্তানকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সফর ও ইরানের সাথে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কেউ যদি ইরানের সঙ্গে কোনো প্রকার বাণিজ্য চুক্তি করতে আগ্রহী হয়, সেক্ষেত্রে এ সম্পর্কিত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।’
পরবর্তীতে ওয়াশিংটনের সাথে ইসলামাবাদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করার সময় ওই মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শুধু পাকিস্তানের বৃহত্তম রপ্তানি বাজারই নয়, বরং দেশটির অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ।‘
তিনি আরও বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে আমরা পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী। তাই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সাফল্য এক অর্থে আমাদেরও সাফল্য, এবং আমরা এই অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখতে চাই।’
এমন এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কবার্তা এলো, যখন অর্থনৈতিক সংকটে টালমাটাল পাকিস্তান বৈদেশিক বিনিয়োগ ও সহায়তার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং এক্ষেত্রে বড় সম্ভাবনা হয়ে এসেছে ইরান।
তবে এই সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ইতিমধ্যে, তেহরান এবং ইসলামাবাদ দুই দেশ বাণিজ্য, প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং বিচারিক বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোট আটটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সাথে বৈঠক পরবর্তী এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান যে পাকিস্তান ও ইরান উভয়েই দি দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ এক হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে।