প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্মাণের সঙ্গে জড়িত শাহরিয়ার পলক। নির্মাণ করেছেন অসংখ্য বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিও। ঈদে গ্রামীণফোনের মিউজিক ভিডিও ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ দিয়ে ফের আলোচনায় এই নির্মাতা। তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর
চারবার ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ নির্মাণ করেছেন আপনি। এর ম্যাজিকটা কী আসলে?
এটার ম্যাজিক আসলে আমি জানি না। এটার প্রথম মিউজিক ভিডিও খুব সম্ভবত ২০০৮-০৯ সালের দিকে হয়েছিল। এরপর ২০১৬ সালের দিকে গ্রে ঢাকা ও গ্রামীণফোন থেকে আমার ডাক আসে এটা নির্মাণের। এরপর ওই সময় আমার ছোট একটা টিম নিয়ে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’র শুট করি। সে সময় দর্শকরা নতুন একটা ভিজ্যুয়াল পেয়ে সেটাকে লুফে নেয় এবং সেটা দারুণ সাড়া পায়। পরবর্তী বছলগুলোতে ঈদ এলেই ২০১৬ তে তৈরি কমার্শিয়ালটি পুনরায় প্রচারিত হতো। কভিডের পর ২০২২-এ যখন পদ্মা সেতু চালু হলো তখন এটাকে বেইজ করে কিছু করা যায় কি না এরকম পরিকল্পনা নিয়ে আমার কাছে আসে বিজ্ঞাপনী সংস্থা। তখন সেটা নিয়ে একটা কাজ করা হয়। এরপর ২০২৩-এ তৈরি হয় আরেকটি ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’। সেখানে বাড়ি যেতে না পারা মানুষের গল্পকেও তুলে ধরা হয়েছিল। আর ২০২৪-এর প্ল্যানটা আমরা একটু অন্যরকমভাবে করার চেষ্টা করি এবং সেটাও দর্শক পছন্দ করে। ক্লায়েন্ট, এজেন্সি আমার ওপর আস্থা রেখেছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।
সাড়া কেমন পেয়েছেন?
এটার রেসপন্স ছিল হিউজ অ্যান্ড ম্যাসিভ। গ্রামীণফোনও এটা নিয়ে বিভিন্ন রকম ক্যাম্পেইন করেছে, প্রথমবারের মতো তারা কোনো টুলসে গিয়েছে যেমন টিশার্ট, মগ, ব্যাজ, নোটপ্যাড প্রিন্ট করে মার্কেটে ছাড়ে যেটা আগে তারা করেনি এটা নিয়ে। ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ এবার ঈদের আগে মাত্র দুদিনে অরগানিকলি দুই কোটি ভিউ ছাড়িয়ে যায়। তারপর তো আরও বেশি। এই ঈদে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’র কাছে অন্য কোনো কোম্পানির কোনো ক্যাম্পেইন ভিড়তেই পারেনি। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় ছিল যে মন্তব্যটা কমেন্টে আমরা বেশি পেয়েছি সেটা হচ্ছে, শেষ দৃশ্যে সবার চোখে পানি চলে এসেছে। অনেস্টলি যদি বলি, এটার ফিডব্যাক আজকের দিন পর্যন্ত পাচ্ছি আমি।
শুনেছি, ঈদুল আজহাতেও নতুন গল্প নিয়ে আসছেন। এটা কতটুকু সত্যি?
হ্যাঁ, একদমই সত্যি। ঈদুল আজহাতে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’-এর তিনটি গল্প আসার কথা রয়েছে। যদিও ডিউরেশন একটু কম তবে এবারের গল্পগুলোও একটু অন্যরকম। আমার বিশ্বাস গতবারের মতো নতুনটাও সবাই বেশ পছন্দ করবেন।
‘প্রেক্ষাগৃহ ভিজ্যুয়াল ফ্যাক্টরি’র শুরুটা কেমন ছিল?
সিনেমা বানানোর স্বপ্ন নিয়েই দুই বন্ধু মিলে এটা শুরু করেছিলাম। প্রেক্ষাগৃহ নামটা কিন্তু সিনেমার জন্যই। এরপর ছোট ছোট কাজ করতে লাগলাম, দর্শকরা পছন্দ করতে লাগলেন। মিউজিক ভিডিওর বাইরে দর্শকরা আমাদের চিনতে পেরেছেন একটা ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ দিয়ে। কিংবা উপমহাদেশের কিংবদন্তি গায়িকা রুনা লায়লার ‘লিজেন্ডস ফরএভার’ অ্যালবামের সব মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছি যেখানে আশা ভোঁসলে, হরিহরণ, রাহাত ফতেহ আলি খান, আদনান সামির মতো শিল্পীরা ছিলেন। উনাদের মতো শিল্পীদের নিয়ে নিজে শুট করেছি। এগুলো করার পর মনে হলো যে, না কিছু একটা করতে পেরেছি।
সব শেষ প্রশ্ন, আপনি সবসময় নিজেকে লুকিয়ে রাখেন কেন, অন্যদের মতো প্রচারে খুব একটা পাওয়া যায় না কেন?
আমি আসলে নিজেকে নিয়ে থাকতেই পছন্দ করি তাই লুকিয়ে রাখি। এখনো মনে হয় যে, কী এমন করেছি যে নিজেকে সামনে নিয়ে আসতে হবে! মানুষ তো বের হয় কিছু একটা বলার জন্য। আমার মনে হয়, এখনো এ রকম কিছু করতে পারিনি যে, বলব। তাই লুকিয়ে থাকি। কাজ করি, দর্শকরা সেটা পছন্দ করেন, তারাই সেটা নিয়ে কথা বলেন। এটাই আমার প্রাপ্তি।