শচিনকে বিস্ময়কর ব্যাটসম্যান মনে করেন রাজিন

ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তী শচিন টেন্ডুলকার খেলা ছেড়েছেন ১১ বছর আগে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়েতে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। অথচ এখনও তিনি ভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে আছেন। আজ পা রাখলেন ৫১ বছর বয়সে। তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার রাজিন সালেহ।

দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপাকালে তিনি বলেছিলেন, ‘শচিন টেন্ডুলকার একজন মানুষ। তার সঙ্গে কারও তুলনা হয় না। তিনি নিজেই নিজের তুলনা। তার সঙ্গে মাঠে দেখা হয়েছে। যতবার তার সঙ্গে দেখা হয়েছে, আমি ততবারই মুগ্ধ হয়েছি। শেষবার তার প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলেছি রোড সেফটি লিজেন্ড ক্রিকেট টুর্নামেন্টে। সেবারও মুগ্ধতায় কোনো ব্যতিক্রম হয়নি।’

শচিনের সঙ্গে নিজের একটি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাজিন বলেন, ‘আমাদের জাভেদ ওমর ভাইয়ের সঙ্গে শচিনের খুব ভালো সম্পর্ক। আমাদের কয়েকজন ক্রিকেটারের খুব ইচ্ছে ছিল তার একটা অটোগ্রাফ নেওয়ার। তার সঙ্গে হোটেলের লবিতে দেখা হতেই জাভেদ ভাইকে দিয়ে সেই আবদার জানালাম। তখন শচিন খুব ব্যস্ত। তাই পরদিন হোটেলের বাইরে একটা জায়গার নাম বলে আমাদেরকে সেখানে থাকতে বলেছিলেন। আমরাও যথারীতি উপস্থিত হলাম। কোনো একটা বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আমাদেরকে দেখতে পেয়েই ডাক দিলেন তিনি। তারপর একে একে সবাইকে অটোগ্রাফ দিলেন। শুধু আমরাই না, সেখানে উপস্থিত সবার আবদারই মিটিয়েছেন।’

শচিনকে ক্রিকেটের বিস্ময়কর ব্যাটসম্যান আখ্যা দিয়ে রাজিন বলেন, ‘ক্রিকেটের বিস্ময়কর এই ব্যাটসম্যানকে দেখে বিস্ময় তখনও থামার ছিল না। আসল ঘটনা তারপরেই ঘটে। কিছুক্ষণ পর আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তার গাড়িতে করে যাচ্ছিল। সেখানেই এক বৃদ্ধা পরিচর্যার কাজ করছিলেন। শচিনকে দেখেই তিনি ডাক দিলেন। সবাইকে অবাক করে ব্যাটিং লিজেন্ড গাড়িতে থেকে নেমে তার কাছে ছুটে গেলেন। তাকে জড়িয়ে ধরলেন, ছবি তুলে ফের গাড়িতে উঠেন।

রাজিন যোগ করেন, ‘একজন তারকা ক্রিকেটারের কাছ থেকে এমনকিছু দেখতে পাওয়া দুষ্কর বিষয়। অথচ সেটাই হয়েছে, নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করার মতো নয়। যেন চিমটি কেটে দেখতে হয়, স্বপ্ন নয়তো। আর এজন্যই তিনি শচিন টেন্ডুলকার।’

শচিনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশকে দুই ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেওয়া রাজিন বলেন ‘তার ব্যাটে ক্রিকেট বিশ্ব দেখেছে একশটি শতক। নিজেকে সৌভাগ্যবান দাবি করতেই পারি। কারণ আমরা ক্রিকেট লিজেন্ডের খেলা দেখেছি। সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি দেখেছি শচিনের। সেই ব্যাটসম্যান জীবনের ৫১ বছর পূরণ করেছেন। শুভ জন্মদিন শচিন। আপনাকে ধন্যবাদ, আমাদেরকে স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত দেওয়ার জন্য।’