আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেই সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। অভিষেক ম্যাচে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করেছেন কাটার দিয়ে। যা মুগ্ধ করেছিল শহিদ আফ্রিদিকেও। তারপর ভারত সিরিজে তো এমএস ধোনির সেই ধাক্কা খেয়ে ফিরে এসে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে আলোড়ন তুলেন বিশ্বজুড়েই। সময়ের পরিক্রমায় সেই ফিজ এখন ধোনির সতীর্থ। খেলছেন আইপিএলের দল চেন্নাই সুপার কিংসে।
সম্প্রতি চেন্নাই সুপার কিংসের মিডিয়া বিভাগকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মোস্তাফিজ। সেখানে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে নানা কথা বলেছেন। ধোনির সতীর্থ হতে পারার অনুভূতিও লুকাননি। জানিয়েছেন, তার কাটার মাস্টার হওয়ার পেছনে অবদান এনামুল হক বিজয়ের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সেই ভিডিওতে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের গল্প শুনিয়েছেন ফিজ। সেখানে তিনি বলেন, ‘এটা (কাটার) আমার ন্যাচারাল। কেউ শেখায়নি। এক সময় আমি জাতীয় দলে নেট বোলিং করছিলাম তখন বিজয় ভাই আমাকে বললো, 'তুই কি স্লোয়ার মারতে পারিস না?' তখন আমি খুব জোরে বোলিং করতাম। তো এটা শোনার পর আমি স্লোয়ার করার চেষ্টা করি। তখন দেখি, ভালোই (বল) ঘুরছে। সেখান থেকেই আমার স্লোয়ার-কাটার করা।’
আইপিএলের এবারের আসরে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলছেন মোস্তাফিজ। আর এই দলের হয়ে খেলাটা তার স্বপ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। তিনি বলেন, ‘যখন থেকে আমি আইপিএল খেলা শুরু করেছি, তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল চেন্নাই দলে খেলা। এবার আমি চেন্নাই দল থেকে ডাক পাওয়ার পর রাতে ঘুম আসছিল না।’
সাক্ষাৎকারে চেন্নাইয়ের এই বাংলাদেশি পেসার বলেন, ‘এটা চেন্নাইয়ের হয়ে আমার প্রথমবার খেলতে আসা। ২০১৬ সালে আইপিএলে আমার অভিষেক হয়, তবে সবসময় স্বপ্ন ছিল এই ফ্র্যাঞ্চাইজির (চেন্নাই) হয়ে খেলা। যখন চেন্নাই টিম ম্যানেজমেন্টের কল আসে, এরপর থেকে সারারাত আর ঘুম আসতেছিল না। একরকম উত্তেজনা কাজ করছিল। কিন্তু পরদিন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ছিল, তাই ঘণ্টাখানেকের মতো ঘুমাই, এরপর থেকে শুধু মেসেজ আসতেছিল। রাত দেড়টার মতো বাজে তখন, সবাই আমাকে অভিনন্দন জানাতে থাকে।’
এরপর চেন্নাইয়ের ক্রিকেটারদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ধোনি-ব্রাভোদের সঙ্গে কি কথা হয় তা জানান মোস্তাফিজ, ‘এখানকার সবাই খুব আন্তরিক, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের। জাতীয় দলে যেমন সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, তেমনি এখানেও শুরু থেকে আমার অস্বস্তি লাগেনি। এখানে বড় ভূমিকা ছিল মাহি (মহেন্দ্র সিং ধোনি) ভাইয়ের, ডিজে ব্রাভো (চেন্নাইয়ের বোলিং কোচ) এবং অন্যান্য কোচিং স্টাফের। ডেথ ওভারে ফিল্ডিং সেট-আপ থেকে শুরু করে ছোট ছোট কিছু বিষয় জানায়, সেগুলো আমার ডেথ ওভারের বোলিংয়ে খুব ভালো কাজে লাগে।’
ফিজ আরও বলেন, ‘উনার (ধোনি) সঙ্গে বেশিরভাগ বোলিং নিয়েই কথা হয়, তবে যা হয় মাঠেই। এর বাইরে তেমন কথা হয় না। মাহি ভাই এসেই বলেন যে এটা (কৌশল) করলে ভালো হয়। আইপিএলে খেললে একজন ক্রিকেটার অনেক আত্মবিশ্বাস পায়, পুরো টুর্নামেন্টে আন্তর্জাতিক সব তারকা ক্রিকেটাররা থাকে। এখানে যদি আমি সফল হই, যেকোনো জায়গায় সফল হওয়াটা সহজ হয়।’
জাতীয় দলের হয়ে খেলা ফিজের কাছে বাড়তি মর্যাদার, একইসঙ্গে ডেথ ওভারে বোলিংয়ের কৌশল নির্ধারণ নিয়েও কথা বলেন এই কাটার মাস্টার, ‘যখন আমি বাংলাদেশের হয়ে খেলি তখন বাড়তি প্রেরণা কাজ করে। আর বিশেষ করে যখন ভারত, পাকিস্তানসহ অন্য বড় দলের সঙ্গে খেলি, যেখানে হাইলাইটস হয় বেশি, সবমিলিয়ে বড় দলের সঙ্গে খেলতে সবসময় ভালো লাগে। এসব ম্যাচে দর্শক থাকে অনেক বেশি। খেলা দেখি কম, তবে খেলতে পছন্দ করি। তবে টি-টোয়েন্টির শেষ ৪-৫ ওভার দেখা হয়, দেখি ব্যাটসম্যানরা কীভাবে খেলে এবং ওই পরিস্থিতিতে আমার কী করা উচিৎ।’