আগামী মাসের আগে ইংল্যান্ডের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই। তাই পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে আমেরিকা যাওয়ার কথা ছিল বেন স্টোকসের। তবে ভিসা জটিলতার কারণে ম্যানচেস্টারে আটকা পড়তে হয়েছে তাকে। ৩২ বছর বয়সী ইংলিশ টেস্ট অধিনায়ককে রেখে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান বিমানবন্দর ছেড়েছেন। তবে ভিসা অনুমতির অপেক্ষায় থাকা স্টোকস দুষ্টুমিতে মেতে উঠেছেন, সেগুলো আবার ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করেও নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার ম্যানচেস্টারের সিটি সেন্টার থেকে লংউড পার্ক পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার পথ হেঁটে আবার ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন স্টোকস। এরপর বুধবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শেফিল্ড ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলা দেখার আগে টানা তৃতীয় দিনের মতো নান্দোস রেস্টুরেন্টে খাওয়ার ছবি পোস্ট করেন তিনি।
সোমবার পরিবারের সঙ্গে ডিজনিল্যান্ডে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল স্টোকসের, কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে তারা তাকে ছাড়াই চলে যেতে বাধ্য হন। এরপর থেকে তিনি তিনবার ম্যানচেস্টার সিটি সেন্টারের নান্দোস পরিদর্শন করেছেন এবং তার ভক্তদের বলেছেন যে রেস্তোরাঁটি, ‘আমার কাছ থেকে একজন ভাল গ্রাহক তৈরি করছে।’
মঙ্গলবার তিনি ম্যানচেস্টারের চারপাশে উদ্দেশ্যহীনভাবে চার ঘন্টা হাঁটলেন, সিটি সেন্টার থেকে লংউড পার্কে ভ্রমণ করেছেন। ইনস্টাগ্রামে ২.৭ মিলিয়ন ফলোয়ারের কাছে নিজের এই অলস সময়ের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিয়ে স্টোকস প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তিনি ২২.২ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছেন। তাতে শরীর থেকে ১ হাজার ৩০০ ক্যালোরি পুড়িয়েছেন। দিনের বাকিটা সময় পাড় করার জন্য একটা সিনেমা দেখতেও গিয়েছিলেন এই ক্রিকেটার।
সময় কাটাতে বুধবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে শেফিল্ড ইউনাইটেডের খেলা দেখতে যান। তার আগে নান্দোসে তৃতীয় দফা ঢু মেরেছিলেন স্টোকস। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন স্ট্যান্ডে বসে একটি ছবিও পোস্ট করেন। যার ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘অ্যাই ডিসেন্ট।’
এভাবে হাস্যরসে মেতে থাকলেও পারিবারিক ছুটি যে মিস করছেন, সেটাও প্রকাশ করছেন। ডিজনিল্যান্ডে মিকি মাউসের পাশে দাঁড়িয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমার গ্যাংকে মিস করছি।’
তবে স্টোকসের ভিসার কী কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাধা পাচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি আইনি নিয়ম রয়েছে যে দেশটিতে ভ্রমণকারী ব্যক্তিদের যদি তারা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ করে থাকে তবে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। মার্কিন আইন অনুসারে, এটি এমন কোনো কাজ বা আচরণকে বোঝায় যা একটি সম্প্রদায়ের অনুভূতি বা স্বীকৃত মানকে মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করে।
২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ব্রিস্টলের একটি ক্লাবের বাইরে রাস্তায় মারামারিতে নাম জড়িয়েছিল স্টোকসের।