প্রতিবেশী রাষ্ট্র বন্ধু হলে সীমান্তে গুলি কেন, প্রশ্ন ফারুকের

বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় থাকার জন্য পদে পদে ষড়যন্ত্র করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র ফোরামের উদ্যোগে ‘সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা ও ভারতীয় আগ্রাসন’র প্রতিবাদে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘বিএনপি নির্বাচিত সরকারকে হটানোর ষড়যন্ত্র করছে'- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে ফারুক বলেন, ‘ষড়যন্ত্র সৃষ্টি করেন আপনারাই, পদে পদে ষড়যন্ত্র করেন। ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টি করেছেন আপনারাই, মঈন-ফখরুদ্দীনের সঙ্গে আঁতাত করেছেন আপনারা। ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে বার বার ক্ষমতায় গেছেন আপনারাই। এবারও বেআইনি নির্বাচন করে ক্ষমতায় গেছেন আপনারা।’

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে সেদিন ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছেন আপনারাই। আপনাদের নেতা ‘৭৫ সালে জাতীয় সংসদে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১ মিনিটে গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ষড়যন্ত্রের ইতিহাস আপনাদের, আমাদের নয়।

সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা ঘটনার জন্য সরকারের পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করে সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘একটু আগেও টেলিভিশনের খবর এলো সীমান্তে আজকেই একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তাই আজকে আমাদের একটি কথা ভারত, তুমি যদি বন্ধু হও, যদি আমাদের প্রিয় প্রতিবেশী বন্ধু হয়ে থাক, সীমান্তে গুলি কেন?’

ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি জানাব, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করুন, আগ্রাসন নীতি পরিহার করুন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ আপনাদের (ভারত) বন্ধ করতে হবে। কারণ আপনাদের দেশে গণতন্ত্র থাকবে আর আমার দেশে গণতন্ত্র যাতে না থাকে সেই ব্যবস্থা আপনারা করবেন বাংলাদেশের মানুষ তা কোনোদিনও গ্রহণ করতে পারে না।’

গণতন্ত্র ফোরামের সভাপতি ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান টিপুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, তাঁতী দলের কাজী মনিরুজ্জামান মুনির, ওলামা দলের মাওলানা কাজী আবুল হোসেন, কৃষক দলের মফিজুর রহমান রিপন, গণতন্ত্র ফোরামের ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।