যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজায় হামলা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। দাবি উঠেছে ইসরায়েলে অর্থায়ন প্রত্যাহারের। বিভিন্ন সূত্র অবলম্বনে লিখেছেন সালাহ উদ্দিন শুভ্র
গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবিতে অভূতপূর্ব বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও। ইউরোপের শিক্ষার্থীরাও একই দাবিতে বিক্ষোভ করছে। পুলিশি সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বহিষ্কার, সংবাদমাধ্যমের প্রোপাগান্ডা, সরকার ও বিরোধী দলের নেতিবাচক বক্তব্যের পরও শিক্ষার্থীরা একাট্টা। তারা ক্যাম্পাসে তাঁবু টানিয়ে বিক্ষোভ করেছে। পুলিশ তাঁবু ছিনিয়ে নিলে খোলা আকাশের নিচে স্লোগান দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছে, গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির। পাশাপাশি তারা ইসরায়েলের পক্ষে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ এবং অস্ত্র সরবরাহকারী ও যুদ্ধ থেকে লাভবান বিভিন্ন সংস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন সরিয়ে নেওয়ার দাবি করছে। কয়েকশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্স জানাচ্ছে,
ফিলিস্তিনিপন্থি এ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ইহুদি ও মুসলিম ধর্মসহ নানা শ্রেণি-পেশার ছাত্র ও শিক্ষকরা। বিক্ষোভের আয়োজক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’ এবং ‘ইহুদি ভয়েস ফর পিস’।
ওয়াই নিউজ ডটনেট জানাচ্ছে, বিক্ষোভকারীরা আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাদের মতে, এসব বিনিয়োগ গাজায় চলমান সংঘর্ষের সমর্থক। যদিও এমন বিনিয়োগের সত্যতার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। তারা শুধু বলেছে, এ ধরনের বিক্ষোভ বেআইনি। দমন করার জন্য ডেকেছে পুলিশ। যদিও ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ নতুন নয় যুক্তরাষ্ট্রে। আন্দোলনকারীরা জানাচ্ছে, ২০০২ সাল থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য চাপ দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। গাজায় যা ঘটছে, বিশ^বিদ্যালয়ের উচিত এ গণহত্যায় বিনিয়োগ করা বন্ধ করা।
রয়টার্স জানাচ্ছে, ইসরায়েলে তহবিল ও অস্ত্র সরবরাহের জন্য সমালোচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অবশ্য এ আন্দোলনকে ‘ইহুদিবিরোধী’ এবং আন্দোলনকারীরা ‘বোঝেন না যে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কী চলছে’ বলে মন্তব্য করেছেন। আর দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিক্ষোভকে ‘জগাখিচুড়ি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আছে সব ধর্ম
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও বিরোধী দল এবং সংবাদমাধ্যমে এ আন্দোলনকে ইহুদিবিরোধী বলে প্রচার দেওয়া হচ্ছে। পুলিশি অভিযানও চলছে এ অভিযোগে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। দ্য গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, নিউ জার্সির প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম ছাত্ররা দুপুরের নামাজের জন্য জড়ো হলে অন্য বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা দেয়াল তৈরি করে। যাদের সবার পরনে ছিল কেফিয়াহ। তারা নামাজরত শিক্ষার্থীদের ছবি যেন কেউ তুলতে না পারে সে প্রতিবন্ধকতাও তৈরি করে। এ চিত্র প্রমাণ করে, সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও বিরোধী দলের নেতারা দাবি করছেন যে, এটি অ্যান্টি-সেমেটিক আন্দোলন। ইহুদি শিক্ষার্থীদেরও কেউ কেউ এ আন্দোলন বিষয়ে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। তাদের দাবি, আন্দোলনে ইহুদিবিরোধী স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার আইনের অধ্যাপক জোডি আর্মার আল-জাজিরাকে বলেন, কর্মকর্তারা বিক্ষোভ ইহুদিবিরোধী বলে
থামানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, অনেক ইহুদি, মুসলিম, ফিলিস্তিনি এবং আমার মতো ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্টরা, বিভিন্ন বয়সের অনেকে বিক্ষোভে একত্রিত হচ্ছে। প্রত্যেকের ইহুদি-বিদ্বেষকে ঘৃণা করা এবং এর বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিত। কিন্তু গাজায় ইসরায়েলের হত্যার বিরোধিতা করলে, যাকে জাতিসংঘ সম্ভাব্য গণহত্যা বলে অভিহিত করছে, এর অর্থ এই নয় যে, আপনি ইহুদিবিরোধী।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিক্ষোভের শুরুতে কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, ইহুদি ছাত্রদের মৌখিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। এ ধরনের আক্রমণের ফলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ হাজার ইহুদি শিক্ষার্থী অনিরাপদ বোধ করছে। এ ঘটনায় হোয়াইট হাউজ এবং স্থানীয় মেয়র নিন্দা জানায়। তবে তাদের একই প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু ইহুদি ছাত্র ফিলিস্তিনিপন্থি বিক্ষোভকে সমর্থন করে সংহতি জানিয়েছে এবং বলেছে, তারা বিপদ দেখছে না। এমন একজন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ছাত্র গ্রান্ট মাইনার। তিনি একটি ছাত্র জোটের নেতা এবং তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত কোম্পানিগুলো থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। মাইনার বলেছেন, অনেক তরুণ ইহুদি রয়েছে যারা বিক্ষোভের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের মতো। এক বিবৃতিতে তার সংগঠন জানিয়েছে, আমরা সংবাদমাধ্যমের আচরণে হতাশ হয়েছি, যারা বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশ করেছে এমন ব্যক্তিদের ওপর ফোকাস করে যারা আমাদের প্রতিনিধিত্ব করে না। মাইনার নিউ ইয়র্ক টাইমসকে আরও বলেন, এ আন্দোলনকে ইহুদিদের জন্য অনিরাপদ বলা, আমার কাছে এ ইঙ্গিত দেয় যে, আপনি শুধু ইহুদিদের একটি নির্দিষ্ট অংশের কথা বলছেন। আমরা যে কোনো ধরনের ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিরোধী। আমরা এখানে এসেছি ফিলিস্তিনির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে এবং আমরা প্রত্যাখ্যান করি, আমাদের ইহুদি সদস্যরা অস্বীকার করে, এ আন্দোলনে ইহুদিবিদ্বেষ আছে।
অর্থায়ন প্রত্যাহার
শিক্ষার্থীদের দাবি বিষয়ে ইউএস টুডে জানাচ্ছে, ফিলিস্তিনিপন্থি বিক্ষোভকারীরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের প্রতি দাবি তুলেছে, ইসরায়েলপন্থি প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ ‘ডাইভেস্ট’ করতে। এ ডাইভেস্ট বলতে কোনো বিনিয়োগ থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়াকে বোঝায়। যে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় বাড়তি অর্থ আয় করে থাকে। তবে এটি সরাসরি বিনিয়োগ নয়। একে ‘এনডোমেন্ট’ বলে যা অনুদানের মতো। যদিও এর ব্যবহারিক দিক বিনিয়োগের মতো। আইনিভাবে এসব বিনিয়োগ হয়ে থাকে। যে উপার্জন দিয়ে বিস্লোবিদ্যালয় তার বৃত্তি প্রদান, গবেষণার কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এ ধরনের বিনিয়োগের পরিমাণ মোট ৫০ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া তাদের হাজার হাজার তহবিল রয়েছে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির এমন বিনিয়োগের পরিমাণ ১৩ বিলিয়ন ডলার, যা দেশটির শীর্ষ দশ বিনিয়োগের একটি।
দ্য গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, কলম্বিয়ার শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছে যে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অ্যামাজন এবং গুগলের লেনদেন আছে। এ দুই সংস্থার সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড-কম্পিউটিং চুক্তি রয়েছে। তাদের সঙ্গে সরাসরি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি তুলছে বিক্ষোভকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের এ বিশ্ববিদ্যালয় মাইক্রোসফটে বিনিয়োগ করেছে। যে পরিষেবা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক প্রশাসন ব্যবহার করে। এ ছাড়া লকহিড মার্টিনের মতো যুদ্ধ থেকে লাভ করা প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে তালিকায়। যারা গত মঙ্গলবার জানিয়েছে তাদের আয় ১৪ শতাংশ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের আন্দোলন প্রথম নয়। আগেও বিভিন্ন সময়ে বর্ণবাদ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে। যার ফলাফল তাদের পক্ষে গেছে। এ ক্ষেত্রে একটি সংগঠনের নাম জানা যায়। যারা বর্জন, প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা দাবি করা অহিংস একটি সংগঠন (বিডিএস)। তাদের দাবির মুখে এর আগে হ্যাম্পশায়ার কলেজ ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে।
দমনের পর সমঝোতায়
ফিলিস্তিনপন্থিদের বিক্ষোভ দমনে কঠোর হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ ও প্রশাসন। শিক্ষার্থীরা নিরস্ত্র থাকলেও তারা থেকেছে সশস্ত্র। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে কয়েকশ শিক্ষার্থীকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ওপর বল প্রয়োগ করতে দেখা গেছে পুলিশকে। এ সময় তারা বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। পুলিশি নির্যাতনের চিত্র পাওয়া যায় দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে। যেখানে বলা হচ্ছে, জর্জিয়ার এমরি ইউনিভার্সিটিতে পুলিশ ‘হিংসাত্মক’ গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ক্যাম্প স্থাপন করলে রাবার বুলেট এবং টিয়ার গ্যাস ছুড়ে তাদের উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এমরি ছাত্ররা ইসরায়েলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির সম্পর্কের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে একাধিক তাঁবু স্থাপন করে। দমনের আরও কিছু চিত্র পাওয়া যায় এপির প্রতিবেদনে, সেখানে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটিতে তাঁবু স্থাপন করতে গেলে পুলিশ ঢাল ও লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সেখান থেকে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। কয়েক ঘণ্টা পরে কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ তাঁবু ভেঙে ফেলে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করে। ওহিও বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জড়ো হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সেখান থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ থাকলেও অস্বীকার করে পুলিশ।
তবে এপি জানাচ্ছে, শুক্রবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ছাত্র সারাদেশে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকে অনুপ্রাণিত করেছিল। তারা শুক্রবার আন্দোলনের দশম দিনে প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে। যার প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সমঝোতায় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও দুটি পুলিশ বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কাছাকাছি পার্ক করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের প্রবেশদ্বারে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে।
তবে যে বিক্ষোভ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা তা ষাটের দশকের উত্তাল মার্কিনিদের কথা মনে করিয়ে দেয়। যখন মার্কিনিরা ভিয়েতনাম যুদ্ধসহ বিভিন্ন মানবিক বিষয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল। এরপর নব্বই দশকেও ইরাক হামলার বিপক্ষে সেখানকার নাগরিকদের সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ইসরায়েল গাজায় নৃশংস হামলা চালালেও চুপ ছিল মার্কিন সমাজ। তাদের সরকার ইসরায়েলকে সহযোগিতা করলেও বিক্ষোভ দেখা যায়নি। সে অভাব দূর করলেন শিক্ষার্থীরা। তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভের ফুল ফোটালেন।