জ্যাকসের ৪১ বলে সেঞ্চুরি দেখে কোহলি বললেন 'অভূতপূর্ব'

২৯ বলে ৪৪ উইল জ্যাকস। ২০১ তাড়া করতে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ১৪ ওভার শেষে ১৪৮/১। জয়ের জন্য ৩৬ বলে চাই ৫৩ রান। সহজ সমীকরণ। কিন্তু জ্যাকস তা আরো সহজ করে দিলেন। ১৫তম ওভারে ৪, ৬, (নো বল)৬, ২, ৬, ৪ মেরে ২৯ রান তুললেন জ্যাকস। ১৬তম ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেলস নিয়ে বিরাট কোহলি স্ট্রাইক দিলেন জ্যাকসকে। রশিদ খানকে জ্যাকস ওড়ালেন- ৬, ৬, ৪, ৬, ৬=২৮ রান। ৪১ বলে সেঞ্চুরি করে ৪ ওভার হাতে রেখেই ৯ উইকেটের জয় এনে দিলেন ইংলিশম্যান। 

অপর প্রান্তে ৭০ রানে অপরাজিত বিরাট কোহলি জ্যাকসের ব্যাটিং নিয়ে বলেছেন, 'অভূতপূর্ব ! জ্যাকস যখন ব্যাট করতে আসে, তখন যেভাবে ও চেয়েছিল সেভাবে মারতে পারছিল না। কিন্তু আমরা জানি সে কতটা বিস্ফোরক হতে পারে। কিন্তু সে মোহিতের পিছনে লেগে গেল, আর আমার ভূমিকা বদলে গেল। আমি অন্য প্রান্তে খুশি মনে তাকে দেখছিলাম।'

৪১ বলে সেঞ্চুরি করে বেঙ্গালুরুকে জেতালেন উইল জ্যাকস

স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ফেরার ম্যাচে ৯ উইকেটের এই জয় দিয়ে আইপিএলে নিজেদেরকে ফেরার লড়াই নামাতে পারলো বেঙ্গালুরু। যদিও ১০ ম্যাচে তৃতীয় জয়ে এখনো তলানীতেই কোহলিরা। বাকি ৪ ম্যাচ জিতলেও ১৪ পয়েন্টের বেশি হবে না। আর তাতে প্লে-অফে ওঠা যাবে কিনা বলা কঠিন। 

আহমেদাবাদে আগে ব্যাট করতে নেমে গুজরাটের শুরুটা ভাল হয়নি। প্রথম ওভারেই ফেরেন ঋদ্ধিমান সাহা। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে সাই সুদর্শনের সঙ্গে জুটি বেঁধে স্বাগতিকদের এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন অধিনায়ক শুবমান গিল। কিন্তু আইপিএলে খারাপ ফর্ম অব্যাহত রয়ে যায় তার। ১৯ বলে ১৬ রান করে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বলে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।

কিন্তু শাহরুখ খান এরপরেই বদলে দেন খেলা। নবম ওভারে ম্যাক্সওয়েলকে একটি ছয় এবং চার মেরে শুরু। এরপর কর্ণ শর্মা, ক্যামেরন গ্রিন কেউ ছাড় পেলেন না। গ্রিনের একটি ওভারে দু’টি চার এবং একটি ছয় মারেন শাহরুখ। খারাপ খেলছিলেন না সুদর্শনও। বেঙ্গালুরুর বোলারদের বিরুদ্ধে তিনিও চালিয়ে খেলছিলেন। শাহরুখকে ফেরান সিরাজ ইয়ার্কারে। তিন চার এবং পাঁচটি ছক্কায় ৩০ বলে ৫৮ করেন তিনি। সুদর্শন ৪৯ বলে ৮টি বাউন্ডারি ও চার ছক্কায় অপরাজিত ৮৪ রান করে ২০০ রানে নিয়ে যান গুজরাটকে। ১৯ বলে ২৬  করেছেন ডেভিড মিলার। 

২০১ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে থাকেন ফাফ ডু প্লেসি। দ্বিতীয় ওভার থেকে আসে ১৫ রান। পরের ওভারে আজমাতুল্লাহ ওমরজাইকে দু’টি ছয় এবং একটি চার মারেন। তবে বেশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। চতুর্থ ওভারে সাই কিশোর ফিরিয়ে দেন ডু প্লেসিকে। সেই একটিই উইকেট ফেলতে পারল গুজরাট। এরপর আমদাবাদে শুধুই কোহলি এবং জ্যাকসের দাপট।

জ্যাকসের ৪১ বলে সেঞ্চুরি আইপিএল ইতিহাসে পঞ্চম দ্রুততম, চলতি আইপিএলে দ্বিতীয় দ্রুততম। কদিন আগেই ট্রাভিড হেড ৩৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।