ইন্স্যুরেন্সে যুগপোযোগী পাঠ্যক্রম তৈরিতে অংশীজনের ভূমিকা শিরোনামে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীমা উন্নয়ণ ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ জয়নুল বারী।
এছাড়াও, সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং বিভিন্ন লাইফ ও নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিইও এবং অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও যেমন মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা আহমেদ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের এমডি এবং সিইও মো. জালালুল আজিম, এলআইসি বাংলাদেশের এমডি ও সিইও শাশ্বত রায়, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সিইও আনোয়ারুল হক, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এমডি ও সিইও আপেল মাহমুদ, বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের এমডি ও সিইও জনাব মুন্সী মনিরুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করে। নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের সিইও খালেদ মামুন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করে।
ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম জাহীদ- এর সঞ্চালনায় উক্ত গোলটেবিল সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাসিনা শেখ।
উল্লেখ্য যে, গত ৯ই মার্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এনবিএফআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ নির্বাহীদের উপস্থিতিতে ‘ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের যুগোপযোগী পাঠ্যক্রমে অংশীজনের ভূমিকা’ শিরোনামে একটি গোলটেবিল আলোচনা সভা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ইন্স্যুরেন্স পাঠ্যক্রমের উপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আর্থিক খাতের প্রয়োজনীয়তা পূরণ ও বিকাশে আর্থিক সেবায় বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন এবং যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সচেষ্ঠ। ব্যাংকিং ও বীমা তথা আর্থিক পরিষেবার বিশেষায়িত জ্ঞান সারা বিশ্বেই প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। তাই বিশ্বায়ন এবং যুগের প্রয়োজনে পাঠ্যক্রমের উন্নয়ন আবশ্যক হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় ইন্স্যুরেন্সে যুগপোযোগী পাঠ্যক্রমের উন্নয়নে উপস্থিত অংশীজনেরা বিস্তারিত মতামত ও অভিব্যক্তি তুলে ধরেন। বৈঠক থেকে আলোচকরা একটি ঐকমত্যে পৌঁছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়কে অবশ্যই প্রযুক্তি নির্ভর আর্থিক পরিষেবা খাতগুলির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে, বিশেষত বীমা খাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকগণ বলিষ্ঠ ও টেকসই বীমা শিল্পের বিকাশে দক্ষ মানব সম্পদের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সম্পর্কের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বীমা উন্নয়ণ ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী তার বক্তব্যে ইন্স্যুরেন্স পাঠ্যক্রমের উপর আয়োজিত উদ্যাগের প্রশংসা করেন। তিনি এবং অন্যান্য আলোচকেরা পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নে প্রায়োগিক বিষয়ের উপর জোর দিতে শিক্ষককের অনুরোধ করেন যাতে করে শিক্ষার্থীরা এই খাতে অবদান রাখতে আরও বেশি উৎসাহী হয়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. নাহিদ হোসেন বীমা খাতে বাজার উপযোগী পাঠ্যক্রমের উপর জোর দেন এবং ইন্স্যুরেন্স শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি বেশি কোয়ান্টিটেটিভ কোর্সসূচি অন্তর্ভূক্তি করার তাগিদ দেন। একইভাবে, অ্যাকচুয়ারি ড. সোহরাব উদ্দিন নতুন কোর্স যেমন Risk Modeling and Survival Analysis যুক্ত করার বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমির চিফ ফ্যাকাল্টি এস এম ইব্রাহিম হোসাইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত বিদ্যমান পাঠ্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং এর সাথে তিনি ইন্স্যুরেন্সে Sales and Marketing কোর্স চালুর বিষয়ে পরামর্শ দেন। এর সাথে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট ফর প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্টের (বিআইপিডি) মহাপরিচালক কাজী মোঃ মর্তুজা আলী বীমা উন্নয়ণ ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং সকল বীমা কোম্পানিকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের আহ্বান জানান।
অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও বর্তমান পাঠ্যক্রমের প্রশংসা করার পাশাপাশি ইন্স্যুরেন্স শিক্ষার্থী/গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ইন্টার্নশিপ এবং পার্ট টাইম জব সুবিধা দেয়ার বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অন্যন্য সিইও যেমন ফারইস্ট এবং গ্রীন ডেল্টা ও গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ফিল্ড ভিজিট’ প্রোগ্রাম এবং বিভাগের উদ্যাগে অন্যান্য বীমা কোম্পানির সাথে ‘এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ চালুর পরামর্শ দেন।
সবশেষে, বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বীমা উন্নয়ণ ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বীমা কোম্পানিগুলোকে বিভাগের সাথে যৌথ গবেষণা প্রোগ্রামের উদ্যোগ গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বৃত্তি সুবিধা ও মেধাভিত্তিক পুরস্কার প্রদান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ জানান যাতে শিক্ষার্থীরা এই খাতে অবদান রাখার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হয়।