সূর্য যখন এক মাইল দূরত্বে থাকবে

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। চারদিকে তীব্র রোদ ও উত্তাপ আতঙ্ক। যেন প্রকৃতিতে আগুন লেগেছে। আর বাতাস সে আগুন ছড়িয়ে দিচ্ছে। সড়কের পিচ গলে যাচ্ছে। বাইরে বের হলে ফোসকা পড়ছে গায়ে। হিট স্ট্রোকে অজ্ঞান হচ্ছে মানুষ। মারাও যাচ্ছে অনেক। তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জীবন। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব প্রায় তিরানব্বই মিলিয়ন মাইল। এত দূরে সূর্য, এরপরও আমাদের কী করুণ অবস্থা! আর কিয়ামতের ময়দানে মাত্র এক মাইল দূরত্বে থাকবে সূর্য। তখন কী হবে আমাদের, চিন্তা করা যায়!

কিয়ামতের ময়দানে সূর্য মানুষের এত কাছাকাছি চলে আসার কারণে কেউ কেউ তাদের ঘামের মধ্যে হাবুডুবু খাবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মানুষের ঘাম ঝরবে। এমনকি তাদের ঘাম জমিনে সত্তর হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে এবং তাদের মুখ পর্যন্ত ঘামে ডুবে যাবে, এমনকি কান পর্যন্ত।’ (সহিহ বোখারি)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত মিকদাদ (রা.) বলেন, ‘আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামত দিবসে সূর্যকে মানুষের এত কাছে আনা হবে যে, তা মাত্র এক অথবা দুই মাইল ব্যবধানে থাকবে।’ সুলাইম ইবনে আমির (রহ.) বলেন, ‘আমি জানি না উক্ত মাইল দ্বারা জমিনের দূরত্ব জ্ঞাপক মাইল বোঝানো হয়েছে, না চোখের সুরমা লাগানোর শলাকা বোঝানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সূর্য তাদের গলিয়ে দেবে। তারা তখন নিজেদের আমল (গুনাহ) অনুপাতে ঘামের মধ্যে হাবুডুবু খাবে। আর তা কারও পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত, কারও হাঁটু পর্যন্ত, কারও কোমর পর্যন্ত এবং কারও মুখ পর্যন্ত ঘাম পৌঁছে লাগামের মতো বেষ্টন করবে। এই কথা বলার পর হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তার হাত দ্বারা মুখের দিকে ইশারা করেন, অর্থাৎ লাগামের মতো বেষ্টন করাকে বোঝালেন।’ (তিরমিজি)

কিয়ামত দিবসে সূর্যকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসার কারণে সূর্যের তাপ কিছু মানুষকে গলিয়ে দেওয়ার অবস্থা করবে। যারা নেককার বান্দা হবে, তাদের সেদিন কোনো কষ্ট হবে না। কিন্তু যারা বদকার, তারা তাদের পাপ অনুযায়ী সেদিন সূর্যের তাপে কষ্ট পেতে থাকবে। ফলে তাদের কারও কারও ঘাম গোড়ালি পর্যন্ত থাকবে, কারও হাঁটু পর্যন্ত, কারও কোমর পর্যন্ত, কারও মুখ পর্যন্ত।

বোখারি শরিফের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) সূর্যের প্রচণ্ড তাপকে জাহান্নামের উত্তাপের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সুতরাং তীব্র গরম দ্বারা কিয়ামত দিবসের কঠিন অবস্থা ও জাহান্নামের শাস্তির বিষয়টি সহজেই অনুমান করা যায়। তাই আসুন, তীব্র এই গরমে কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে জীবনের যাবতীয় গুনাহ থেকে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমাপ্রার্থনা করি, ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হই, মানুষের অধিকার হরণ করে থাকলে তা আদায় করে দিই এবং আল্লাহর সব বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মেনে চলি।