টেন্ডার জমা দিতে যাওয়ায় ঠিকাদারের ওপর যুবলীগ নেতার হামলা

ফেনী সেতুর উপর টোল আদায়ের ইজারার টেন্ডার জমা দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন আমান ফারহান ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. আলী আক্কাস। আজ সোমবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে ফেনী সড়ক ভবনের নিচে গ্যারেজে মারধর করে টেন্ডার জমা দিতে বাধা দিয়েছে আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী যুবলীগ নেতা সেন্টু মিয়া ও তার লোকজন। এ ব্যাপারে আলী আক্কাস বাদী হয়ে সেন্টু ও টিপুসহ অজ্ঞাত ৩০—৪০ জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

আলী আক্কাস বলেন, সোনগাজী-কোম্পানীগঞ্জের ছোট ফেনী নদীর উপর ব্রিজের টোলের টেন্ডার নিয়ে ফেনী সড়ক ভবনে আসলে সেন্টু ও টিপুসহ ৩০-৪০ জন গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে সড়ক ভবনের নিচে আমাকে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। আমার পকেট থেকে মোবাইল, মানিব্যাগ, এবং টেন্ডারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চেক, পে-অর্ডার, হিসাবের খাতা নিয়ে যায়। তারপর আমাকে সার্কিট হাউজ সংলগ্ন একটি চা দোকানে নিয়ে ১২টা ১০ পর্যন্ত আটকে রাখে, সেখানে ২০-৩০জন লোক আমাকে পাহারায় রাখে এবং সেখানেও আমাকে মারধর করে। পরে সেন্টু আমাকে আমার মানিব্যাগ এবং হিসাবের খাতা দিয়ে দেয়। আমি যখন মোবাইল, এবং টেন্ডারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চেক, পে-অর্ডার ফেরত চাই তখন সে বলে মোবাইল এবং কাগজপত্র এমপি (নিজাম উদ্দিন) এর কাছ থেকে নিস। অভিযুক্ত সেন্টু মিয়া সোনাগাজী উপজেলা যুবলীগের সদস্য। সেন্টু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী।

সড়ক বিভাগ ফেনী সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী-নোয়াখালী সংযোগ সড়কের সাহেবের ঘাট ব্রিজের টোল আদায়ে ইজারাদারদের কাছ থেকে সপ্তমবারের মতো টেন্ডার আহ্বান করে সড়ক ও সেতু বিভাগ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে টেন্ডার প্রদানে বাধা দেওয়ায় নতুন করে আরাব টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল। তিনি বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাতে কোন সমস্যা না হয় সেজন্য পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছ।

বিকেল ৩টায় টেন্ডার বক্স খোলা হলে শুধু সেন্টু এন্টারপ্রাইজের একটি টেন্ডার আবেদন পাওয়া যায়। কোম্পানীগজ্ঞ মুচাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুর আলী বলেন, অন্যান্য ঠিকাদারদের টেন্ডার জমাদানে বাধা দিয়েছে সেন্টু এন্টারপ্রাইজের লোকজন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা সেন্টু মিয়া বলেন, ‘আমি অসুস্থ। আজকে বাড়ি থেকে বের হই নাই। কেউ আমার বিরুদ্ধে হয়তো ষড়যন্ত্র করছে।’

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।