২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বায়ার্ন মিউনিখের। বুন্দেসলিগাসহ হাতছাড়া হয়েছে মৌসুমের অন্য শিরোপাগুলো, বাকি এই একটাই। তাই আজ এমনই একটি ম্যাচ, যা এবারের মৌসুমে বায়ার্নের নৈপুণ্য ও সামর্থ্যরে মাপকাঠি বলে বিবেচিত হবে। আর সেই ম্যাচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে।
আগের ইউরোপিয়ান কাপ এবং এখনের চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে বাভারিয়ানদের ২১তম সেমিফাইনাল রণের ক্ষেত্র নিজেদের মাঠ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনা। ওপাশে ৩৩তম সেমিফাইনাল খেলতে সফরে আসা স্প্যানিশ গ্যালাকটিকোসরা। আসরের ইতিহাসে এ দুই দলের চেয়ে বেশি সেমিফাইনাল খেলেনি আর কেউ। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ১৫ ম্যাচে নিজেদের মাঠে হারেনি বায়ার্ন।
চ্যাম্পিয়নস লিগ ফুটবলের ইতিহাসে বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ মানেই খানিকটা বেশি উত্তেজনা। দুই ক্লাবের দ্বৈরথের পুরনো ইতিহাসই এর পাথেয়। চ্যাম্পিয়নস লিগের এ দুই ক্লাব নিজেদের মুখোমুখি হয়েছে ২৬ বার। যে কীর্তি নেই ইউরোপের আর অন্য কোনো ক্লাবের।
অল্পের জন্য এগিয়ে আছে রিয়াল। গ্যালাকটিকোসরা জিতেছে ১২ বার, বায়ার্ন ১১ বার। আর ম্যাচ ড্র হয়েছে ৩ দফায়। শিরোপার হিসাবে রিয়াল সবচেয়ে সেরা। ১৪ বার ইউরোপ সেরা হয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। বাভারিয়ানদের শোকেজে সাজানো আছে ৬টি ট্রিফি
সেমির প্রথম লেগের আগে বায়ার্ন কোচ টমাস টুখেল একটু বেশিই উত্তেজিত। মৌসুম শেষে তিনি যেন ক্লাব না ছাড়েন তার জন্য রীতিমতো পিটিশন সই করেছেন সমর্থকরা। তাদের নিয়েই রিয়ালকে ঠেকাতে চান টুখেল, ‘এই ৯০ মিনিটে আমরা পুরোটুকু দিয়ে খেলব। আমাদের চাই এমন একটা পরিবেশ, যেখানে সমর্থকদের পূর্ণ অংশগ্রহণে খারাপ সময়গুলো কাটিয়ে উঠে বাড়তি সুবিধা নিতে পারি।’
উল্টো দিকে প্রতিপক্ষের মাঠে এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে চাপ উতরে জিতে আসতে হয়, চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। যার তরতাজা সাক্ষী কোয়ার্টারের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানসিটি। রিয়াল বস কার্লো আনচেলত্তির ভাষায়, ‘রিয়ালের জার্সি যে ধরনের মনোভাব ও অঙ্গীকার দাবি করে তা আমরা করে দেখিয়েছি। আমাদের জন্য এটি খুবই বিশেষ প্রতিযোগিতা। আমরা বরাবরই মানুষের আকাক্সক্ষাতীত নৈপুণ্য দেখিয়ে দিই। এবারও সবাই ভেবেছিল আমরা বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু আমরা এখনো এখানেই আছি।’
হোক সে আত্মবিশ্বাস কিংবা হুমকি, কেইন-বেলিংহাম, সানে-ভিনিসিয়ুস, মুসিয়ালা-রদ্রিগো, ক্রুস-নয়্যার নিংড়ে দেবেন পুরোটুকু। তাদের আগের ২৬টির মতো আরও একটি অনবদ্য চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল অপেক্ষা করছে রাত ১টায়। দেখা যাবে সনি স্পোর্টস ১ ও ২ চ্যানেলে।