কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় সবার পরিচিত একজন ব্যতিক্রমী কৃষি উদ্যোক্তা কৃষক শামসু। বিভিন্ন সময় মালচিং পদ্ধতিতে দেশি ও বিদেশি সবজির বাম্পার ফলন ফলিয়ে উপজেলাসহ জেলায় সুনাম কুড়িয়েছেন। উপজেলায় প্রথমবারের মতো সাম্মাম, রকমেলন, স্কোয়াশ, ব্রকলি, কেনিয়া, হলুদ তরমুজ, বারোমাসি কালো তরমুজ, লেটুস পাতাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে উপজেলায় সাড়া জাগান।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিকূলতার মাঝেও কখনো আশাহত হননি তিনি। গত দুই মাস পূর্বে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করে মালচিং ও নেট পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করেন। পাশাপাশি এক বিঘা জমিতে ধুন্দুল ও ২০ শতক জমিতে বারোমাসি তরমুজ চাষ করেন। করলার গাছগুলো বেশ তরতাজা হয়ে ফলন দিতে শুরু করছিল। এমন সময় সারা দেশের ন্যায় মুরাদনগর উপজেলায়ও তীব্র তাপপ্রবাহ বইতে শুরু করে। এই তাপে নিয়মিত সেচ দিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি কৃষক শামসু তার করলা ক্ষেত। রোদে পুড়ে যায় ফলন্ত সবগুলো গাছ। পাশাপাশি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ধুন্দল ও বারোমাসি তরমুজসহ চাষ করা গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজি।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, করলা ক্ষেতের বেশির ভাগ অংশের গাছগুলো মরে শুকিয়ে গেছে। যেগুলো কোনোরকমে টিকে আছে সেগুলোও মরে যাওয়ার পথে। পাশের এক বিঘা জমিতে লাগানো ধুন্দুল গাছ ও ২০ শতক জমিতে লাগানো বারোমাসি তরমুজের কিছু গাছ মরে গেছে আর বাকি যেগুলো রয়েছে সেগুলোও নেতিয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা না কমলে ও বৃষ্টি না হলে বাকি গাছগুলো মরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
কৃষক শামসু এই প্রতিবেদককে বলেন, ধার-দেনা করে দুই মাস পূর্বে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করে এক বিঘা জমিতে মালচিং ও নেট পদ্ধতিতে করলা চাষ করেছি। গাছগুলোতে ফুল ধরেছে অনেক। অনেক গাছে ফলনও হতে শুরু করেছে। ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত গরমের কারণে নিয়মিত সেচ দিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারিনি। সবগুলো গাছই রোদে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি এক বিঘা জমির ধুন্দল ও ২০ শতক জায়গার তরমুজ গাছগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সবগুলো ফসলে তার প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে, ধার-দেনাগুলো কিভাবে পরিশোধ করবেন সেই চিন্তায় ঘুম হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান বলেন, তীব্র গরমের কারণে গ্রীষ্মকালীন সবজি করলা, পটল, ঢ্যাঁড়স, ধুন্দুল ইত্যাদি ক্ষেত নষ্ট হতে পারে। এসময় গাছে পরিমিত পানি দিতে হবে এবং নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে।