একটা দল হারিয়েছে মূল দলের ৭ ক্রিকেটারকে। অন্য দলটা ফিরে পেয়েছে তাদের সেরা খেলোয়াড়কে। বিকেএসপিতে সকালে মোসাদ্দেক হোসেন আর নুরুল হাসান সোহান যখন টস করলেন, তারপর দলের কয়টা পরিবর্তন সেটা নিশ্চিত করে বলতেই পারেননি অধিনায়ক। ‘অনেক’ বলেই চালিয়ে দিয়েছেন কারণ কয়টা নাম মনে রাখবেন! জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বাইরে রাখা ভাঙাচোরা এই আবাহনী লিমিটেডকে চাপের মুখে ফেললেও শেষ পর্যন্ত হারাতে পারেনি শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। ফেরার ম্যাচে সাকিব ব্যাট হাতে করেছেন ৪৯ রান আর বোলিংয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট, তাতে থামিয়ে রাখা যায়নি আরও একটি শিরোপার খুব কাছে থাকা ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সফলতম দলটিকে। আফিফ হোসেনের ৮৩ আর মোসাদ্দেকের অপরাজিত ৫৩ রানের সঙ্গে এনামুল হক বিজয়ের হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে শেখ জামালকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী। নিশ্চিত করেছে ২৩তম লিগ শিরোপা।
তাপপ্রবাহের মধ্যেও টস জিতে ফিল্ডিং নিলেন মোসাদ্দেক। হয়তো দলের আনকোরা কয়েকজন ব্যাটসম্যানকে চটজলদি প্রতিপক্ষের মুখোমুখি করতে চাননি। ৫০ ওভার ফিল্ডিং করিয়ে তাদের বোঝাতে চেয়েছেন উইকেটের ধরন। জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে ‘এসওএস’ পেয়ে ফিরে আসা ৩ ক্রিকেটারের দুজন আফিফ আর তানজিম সাকিবই আবাহনীর শিরোপা নিশ্চিত করা জয়ের দুই নায়ক। ওপেনার সাইফ হাসান আর হাফসেঞ্চুরি থেকে ১ রান দূরে থাকা সাকিবকে ফিরিয়েছেন এই পেসারই, শেষবেলায় বিধ্বংসী হয়ে ওঠা জিয়াউর রহমানকেও থামিয়েছেন তানজিম সাকিব। টপ অর্ডারে সৈকত আলির ৪১ আর সাকিবের ৪৯ বাদে আর কারও দুই অঙ্কের রান নেই। সাইফ ১, ফজলে মাহমুদ রাব্বি ৪ আর তাইবুর পারভেজ ০ রানে আউট হলে সাকিব আর সৈকত আলি মিলেই বিপর্যয় সামাল দেন। ৪৯ রানে লেগসাইডে খেলতে গিয়ে বলের গতি আঁচ করতে ভুল করা সাকিব ক্যাচ তুলে দেন সাব্বির হোসেনের হাতে, শর্ট মিডউইকেটে। জিয়ার ৮ ছক্কা আর ৬ বাউন্ডারির ধংসযজ্ঞ চালানো ৮৫ রানের ইনিংসে ৫০ ওভার শেষে শেখ জামালের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ২৬৭ রান। ১০ ওভারে ৬২ রানে ৩ উইকেট সাকিবের, সবচেয়ে বেশি ছক্কাও হজম করেছেন এই পেসার।
রানতাড়ায় নাঈম শেখের সঙ্গে নতুন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সাব্বির হোসেনের জুটিটা জমেনি, ভেঙে যায় ১০ রানেই। এরপর সেই এনামুল হক আর নাঈম মিলেই দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়ে বিপদ সামাল দেন। নাইম ৪২ বলে ২১ রান করে আউট হলেও এনামুল করেন ৮০ বলে ৬৭ রান। ৮৮ বলে ৮৩ রানের ইনিংস খেলে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন আফিফ হোসেনও। সঙ্গে মোসাদ্দেকের ক্যাপ্টেন’স নকে ১ বল আর ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আকাশি-হলুদরা। শফিকুলের বলে মারা ছক্কায় মোসাদ্দেকের ফিফটি, আবাহনীর জয় আর ২৩তম লিগ শিরোপা সবই নিশ্চিত হয়।
বিকেএসপিতেই অন্য ম্যাচেও ছিল টান টান উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ। টি-টোয়েন্টির বিবেচনার বাইরে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজের ৫৮ ও জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে আসা মাহমুদউল্লাহ’র ৫৬ রানে ভর করে অলআউট হওয়ার আগে সাদা-কালোদের সংগ্রহ ২৫৫ রান। রান তাড়ায় শাইনপুকুর সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ২৪৭ রানেই অলআউট। আকবর আলির ৬১, মার্শাল আইয়ুবের ৭০ রানের ইনিংসের পরও শেষ ৬ উইকেট মাত্র ৪৯ রানে হারানো শাইনপুকুর হেরে যায় খুব কাছে গিয়েও।
ফতুল্লায় প্রাইম ব্যাংক-গাজী গ্রুপের ম্যাচটা ছিল নিছকই নিয়মরক্ষার। তামিম ইকবাল আর মুশফিকুর রহিমের হাফসেঞ্চুরিতে প্রাইম ব্যাংক জিতেছে ৭ উইকেটে। গাজীকে ১৮১ রানে অলআউট করে দেওয়ার পর রানটা ৩১.৩ ওভারেই টপকে যায় প্রাইম ব্যাংক।
আবাহনীর সামনে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি, লিগের বাকি দুটো ম্যাচ জিতলেই আবাহনী অর্জন করবে বিরল এই সাফল্য। দলটির ব্যাটিং কোচ রাজিন সালেহ জানিয়েছেন ঘাটতি মেটাতে ভালো খেলোয়াড়ের খোঁজ চলছে, ‘যারা খেলেছে তাদের মধ্যে মুন আর ফাহাদের তো ব্যাটিংই করতে হয়নি। ওপেনার সাব্বিরকে নিয়ে আমরা আশাবাদী। এছাড়াও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের থেকে ভালো কাউকে পেলে আমরা নেব। আমরা তো অবশ্যই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হতে চাই, আমাদের এই সামর্থ্য নিয়েই আমরা বাকি দুটো ম্যাচ জেতার চেষ্টা করব।’