গ্রিনহাউজ গ্যাস ধরার ফাঁদ!

আহাওয়ার চরম রূপ এখন প্রায় মৌসুমেই হাজির হয় পৃথিবীর বাসিন্দাদের সামনে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গরমের সময় তীব্র গরম আর শীতের সময়ের হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের আবহাওয়ার নিত্য রূপ। আসলে অতিরিক্ত গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণই আমাদের ধারণার চাইতেও চরম অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে আবহাওয়া-জলবায়ুকে। এর সঙ্গে দ্রুত গতিতে বনাঞ্চল তথা গাছপালা কমতে থাকায় গ্রিনহাউজ গ্যাসের ভারসাম্য রাখাও দায় হয়ে পড়েছে। ফলে আবহাওয়ার চরম অবস্থা আরও চরম হচ্ছে। এই অবস্থায়  গাছের চেয়েও দ্রুত গ্রিনহাউজ গ্যাস আটকায় এমন একটি পদার্থ আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, এআইয়ের সাহায্যে ‘নতুন এক উপাদান পাওয়ার এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলোর হয়তো সহজ সমাধান দেবে।

বিবিসি বলছে, স্কটল্যান্ডের হেরিওট-ওয়াট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যুগান্তরকারী সেই পদার্থ যা ফাঁপা খাঁচার মতো অণু দিয়ে তৈরি। এটি কার্বন ডাই অক্সাইড ও সালফার হেক্সাফ্লোরাইডের মতো গ্রিনহাউজ গ্যাস ধারণ করে রাখার ক্ষমতাসম্পন্ন।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, হেরিওট-ওয়াট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি এ গবেষণার পেছনে কাজ করেছে ইউনিভার্সিটি অফ লিভারপুল, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অফ সাউদাম্পটন ও ইস্ট চায়না ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা। এ সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল নেচার সিন্থেসিসে।

গবেষণায় যৌথভাবে নেতৃত্ব দেওয়া হেরিওট-ওয়াট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মার্ক লিটল বলেছেন, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে এ আবিষ্কারটি। সরাসরি বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড সংগ্রহের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। কারণ, আমরা কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ বন্ধ করলেও পরিবেশে এরই মধ্যে নির্গমন করা আগের কার্বন ডাই অক্সাইড সংগ্রহের ক্ষেত্রে উপাদানটি অনেক প্রয়োজনীয়।

তিনি বলেন, বাতাস থেকে কার্বন শোষণের খুবই কার্যকর উপায় হচ্ছে বৃক্ষরোপণ, তবে তা খুবই ধীরগতির প্রক্রিয়া। তাই পরিবেশ থেকে আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে গ্রিনহাউজ গ্যাস সংগ্রহের জন্য মানুষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়, মানুষের তৈরি করা অণু।

নতুন আবিষ্কারটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রেখে গ্রিনহাউজের দেয়ালের মতো কাজ করে। এক্ষেত্রে কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রাকৃতিক উপায়ে নির্গত হলেও সালফার হেক্সাফ্লোরাইড এমন এক মানবসৃষ্ট গ্যাস, যা খুব কার্যকরভাবে তাপ আটকাতে সক্ষম।

গবেষকরা বিভিন্ন কম্পিউটার সিমুলেশন ব্যবহার করে নির্ভুলভাবে অনুমান করার চেষ্টা করেছেন, কীভাবে বিভিন্ন অণু নতুন উপাদানে নিজেদের সমন্বিত করবে। এ বিষয়ে ড. লিটল বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ভবিষ্যতে এ নতুন উপাদানটিকে আরও উন্নত করা যেতে পারে। তিনি বলেন, এআইয়ের সাহায্যে ‘নতুন এক উপাদান পাওয়ার এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলোর হয়তো সহজ সমাধান দেবে। আর এগুলোর জন্য গবেষণাগারেরও বাধ্যবাধকতাও নেই।

এ গবেষণাটিকে অন্যান্য উপাদানের বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করে ড. লিটল বলেন, জটিল কাঠামোওয়ালা বিভিন্ন অণু বাতাস থেকে নানা বিষাক্ত যৌগ, বিশেষ করে উদ্বায়ী জৈব যৌগ অপসারণে ব্যবহার করা যেতে পারে। এমনকি চিকিৎসাবিজ্ঞানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এটি।