চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর (বিজেএস, ডাক্তার, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ৩৭ বছর), পুলিশের এসআই ও সার্জেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩০ বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানসহ অন্যান্য দাবি মেনে না নিলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছে ৩৫ প্রত্যাশীরা চাকরি প্রার্থীরা।
আগামী ১১ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছে ‘চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি চাই ২০২৪’ এর নেতৃবৃন্দরা। আজ বুধবার (১ মে) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দরা এই ঘোষণা দেন।
চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি চাই-২০২৪ এর মুখপাত্র মো. শরিফুল হাসান শুভ বলেন, আমরা চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি চাই অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ৩৫ চাই। তারই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩০ আগস্ট থেকে লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিক্ষামন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বরাবর ডিও লেটার প্রদান, জাতীয় পার্টির মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. মুজিবুল হক চন্নু এমপি জোর সুপারিশ করেছেন এবং সেই সাথে দাবি বাস্তবায়নে ৩২ জন স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নীতিগত সমর্থন করে জোর সুপারিশ করেন। আমরা চাই এ নিয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হোক।
তিনি বলেন, সরকারি/বেসরকারি/আধা সরকারি/ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান/স্বায়ত্তশাসিতসহ দেশে বিদ্যমান সকল ধরনের চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩০ বছরকে মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করে। তবে বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবির বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের পাতা নং ৩৩ এর শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি অনুচ্ছেদে "সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে মেধা ও দক্ষতা বিবেচনায় রেখে বাস্তবতার নিরীখে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে" বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু তা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।
দেশের মানুষের গড় আয়ু বাড়লেও আবেদনের বয়সসীমা একই রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল পর্যায়ে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আজ থেকে ৩৩ বছর আগে ১৯৯১ সালে ২৭ বছর থেকে ৩০ বছরে উন্নীত করা হয়, যখন বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫৭ বছর। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩ বছর বিধায় চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা যৌক্তিক।
উন্নত রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক মানদন্ড মেনে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা নূন্যতম ৩৫ বছর করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় ১৬২ টি দেশে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা কমপক্ষে ৩৫ বছর, তার মধ্যে কিছু দেশে তা উন্মুক্ত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ হয়েও বিভিন্ন রাজ্যভেদে চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪৫ বছর, মালদ্বীপে ৪৫ বছর, শ্রীলঙ্কায় ৪৫ বছর, নেপালে ৩৫ বছর, আফগানিস্তানে ৩৫ বছর। ভারতসহ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো অনেক গবেষণা করেই চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আন্তর্জাতিক মানদন্ড মেনে নূন্যতম ৩৫ বছর করেছে।