ক্ষুধা কোনো ‘দিবস’ মানে না

সারা বিশ্বের ন্যায় দেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮০টি দেশে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে যে শ্রমিকদের জন্য এই দিবস তারাই জীবিকার তাগিদে কাজে বের হয়েছেন। তারা বলছেন কাজ না করলে আহার জুটে না, দিবস পালন কেবল বিলাসিতা।

প্রান্তিক শ্রমিকদের অনেকের জানা ও নেই আজ যে শ্রমিক দিবস। অনেকেই জানেন না এ দিবসের মর্মকথা। তারা বোঝেন প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে কাজে যেতে হবে কাজ শেষে বাজার করে বাসায় ফিরতে হবে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললে এমনি ছিল তাদের শ্রমিক দিবসের ভাবনা।

বুধবার (১ মে) সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি ছুটি হওয়ায় রাস্তাঘাট ফাঁকা। জরুরি প্রয়োজনে মানুষ রাস্তায় বের হলেও তা যানজট সৃষ্টি করে নি। তবে এদিনেও রাস্তায় বের হয়েছেন পরিবহন শ্রমিক, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী।

মে দিবসের প্রথম দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটর থেকে মানিক মিয়া এভিনিওয়ে যাওয়ার পথে কথা হয় বাসের হেলপার সোহেল আহমেদের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাস না চললে খাবো কী? আমাদের মতো যারা শ্রমিক তাদের কোনো সঞ্চয় নেই ফলে ছুটি কাটাব কেমনে। যাদের অনেক টাকা পয়সা তারা ছুটি কাটাবে।

শ্রমিক দিবস সম্পর্কে জানেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শুনেছি আজ নাকি শ্রমিক দিবস। কিন্তু এতে আমাদের লাভ কী, এই দিবসে তো আমাদের জীবিকার নিশ্চয়তা দেয় না। আমাদের চাকরীর নিশ্চয়তা দেয় না। নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়, জরিমানা করা হয়। আমাদের কল্যাণ তহবিলের টাকা লুট করা হয় আমরা কোনো সুবিধা পাই না। ফলে এসব দিবস অর্থহীন।

আসাদ গেট এলাকায় কথা হয় আসাদা, রবিউল, শাফায়েত নামের ৩ দিনমজুরের সঙ্গে। এই শ্রমিকরা মূলত বাসা পরিবর্তনের কাজ করে থাকেন। তারা বলেন, শ্রমিক দিবস কি আমাদের বাসায় খাবার পৌঁছাই দেবে, যদি না দেয় তাহলে তো রাস্তায় বের হতেই হবে। এমনিতেই যা উপার্জন করি তা দিয়ে সংসার চলে না। মানুষের মাল টানার কাজ খুব কষ্টের কিন্তু তাও টাকা দিতে চায় না। আবার সবসময় ভয় কাজ করে যদি কিছু নষ্ট হয়ে যায়।

রাজধানীতে রিকাশা চালান রংপুরের শহিদুল। তিনি বলেন, শ্রমিক দিবস সম্পর্কে জানি না, এসব নিয়ে মাথা ঘামাই না। দিবস নিয়ে ভাববে বড়লোকরা। যাদের পেটের দায় নেই। আমাদের মতো শ্রমিকরা এসব দিবস নিয়ে ভাবতে গেলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকা লাগবে।