পাবনার সুজানগরে পুলিশের সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীনের সমর্থকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চালানো গুলিতে অন্তত দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ভায়না ইউনিয়নের কালীর মোড়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীনুজ্জামানের সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল ওহাবের সমর্থকদের কথা-কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে সন্ধ্যায় শাহীনুজ্জামানের সমর্থকরা ভায়না ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিনের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শাহীন সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ছুড়লে ভায়না গ্রামের বাদশা প্রামাণিক ও মতিন শেখ গুলিবিদ্ধ হন। তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভায়না ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আবদুল ওহাবের মোটরসাইকেলের ভোট করছি বলে শাহীনের সন্ত্রাসী বাহিনী প্রতিনিয়ত আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কালীর মোড়ে তারা আমার ভাতিজা আবদুল আওয়ালকে চর-থাপ্পড় ও কিলঘুসি মারে। এ সময় আমাদের লোকজন তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে তাদের প্রায় অর্ধশত লোকের সশস্ত্র গু-া বাহিনী আমার বাড়ি আক্রমণ করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল ওহাব অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীনের লোকজন সারা উপজেলায় আমার লোকজনের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আমি সকালেই নির্বাচন কমিশনারের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি।’
তবে শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, ‘আমার এক সমর্থককে মারধর করেন ভায়না ইউপি চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন। এ নিয়ে আমার লোকজন জড়ো হলে আমিনের লোকজন পরিকল্পিত হামলা করে আমার সমর্থকদের মারপিট করেছে। আমি আমিন চেয়ারম্যানসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর গ্রেপ্তার দাবি করছি।’
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে হট্টগোলে চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীনের লোকজন ভায়না ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘেরাও করলে পুলিশ সেখানে যায়। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। একজন পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তাকে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে।’