‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ খ্যাতি পাওয়া মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে চিকিৎসক না হয়েও মৃত্যু সনদ প্রদান, আশ্রমের টর্চার সেলে মানুষজনকে নির্যাতন ও মানব পাচারের মতো অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে ভুক্তভোগী ও পুলিশ।
ডিবি বলছে, কেউ মারা গেলে মিল্টন সমাদ্দার মরদেহ দাফনের পর চিকিৎসা ও সিটি করপোরেশনের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে মৃত সনদ দিতেন। সেই সিলগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। মিল্টনকে রিমান্ডে নিয়ে তার স্ত্রীকেও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর যদি কেউ তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন, তাহলে স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হবে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেগুলো তিনি অস্বীকার করতে পারেননি। গত বুধবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ মিল্টনকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে অজস্র অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে এসব বিষয় জানার চেষ্টা করা হবে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ডিবি সাত দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। এর আগে কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিল্টন সমাদ্দারের এমন ভয়ংকর অপরাধের তথ্য তুলে ধরা হয়। তবে বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন মিল্টন। ডিএমপি ও সমাজসেবা অধিদপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দেন মানবাধিকার কমিশন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
মিরপুর মডেল থানার ওসি মুন্সী ছাব্বির আহমেদ জানান, চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার আশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে জাল মৃত্যু সনদ তৈরি করার অভিযোগে প্রথম মামলাটি করে ডিবি পুলিশ। এরপর তার আশ্রমের টর্চার সেলে মানুষজনকে মারধর করার অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে আরও একটি মামলা হয়েছে।
জাল সনদের মামলাটি করেন ডিবির মিরপুর বিভাগের মিরপুর জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল পাশা। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার আশ্রমের বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এসব সংবাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করতে ডিবি মিরপুর বিভাগের একটি দল বুধবার সন্ধ্যায় চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার আশ্রমে যায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়।