কক্সবাজারের উখিয়ায় নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় ধরে নিয়ে যাওয়া ১২ বাংলাদেশি জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। গত বৃহস্পতিবার রাতে উখিয়ার বালুখালী সীমান্তের নাফ নদীতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
যারা মুক্তি পেয়েছেন তারা হলেন উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল এলাকার হোসেন আলীর ছেলে জানে আলম (৩৫), মৃত আবদুস ছালামের ছেলে আবদুর রহিম (৪০), মৃত জালাল আহমদের ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম (৩৭) ও সাইফুল ইসলাম (৩০), মৃত আলী আহমদের ছেলে আয়ুবুল ইসলাম (৩০), আবু তাহেরের ছেলে শাহীন (২০), গৌজঘোনা এলাকার আলী আহমদের ছেলে আবদুর রহিম (৫২), পুটিবনিয়া এলাকার মৃত মিয়া হোসেনের ছেলে ওসমান গণী (৩০), মৃত আবুল শামার ছেলে ওসমান (৩৫), আয়ুব ইসলামের ছেলে আবুল হাশিম (৩৫), টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং লম্বাবিল এলাকার রোমান আলীর ছেলে আবদুল জলিল (৩২) ও দৈংগ্যাকাটা এলাকার হোসাইন আহমদ (৫৫)।
ছাড়া পাওয়া আবদুল জলিল বলেন, আরাকান আর্মি তাদের নাফ নদীর বাংলাদেশ অংশ থেকে বুধবার ধরে নিয়ে গিয়েছিল। জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সীমান্তের পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাতের বেলা নদীর বাংলাদেশ অংশের বালুখালীর একটি এলাকায় ১২ জনকে ছেড়ে দিয়ে তারা চলে যায়। গত বুধবার সকাল ৮টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী রহমতেরবিল সীমান্তে নাফ নদী থেকে এই জেলেদের ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জেলেদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আরাকান আর্মির সদস্যরাই জেলেদের নিয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন সূত্র থেকে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এ ছাড়া রহমতেরবিল সীমান্তে মিয়ানমার অংশে এখন সে দেশের কোনো সরকারি বাহিনী নেই। যারা ছিলেন তারা সবাই সংঘাতের সময় পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন। এখন রহমতেরবিল সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ওই এলাকাটি আরাকান আর্মির দখলেই আছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন বলেন, ‘অপহৃত জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। এখন তারা পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন।’