‘স্বার্থের টানে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরব জাতীয়তাবাদী ঐক্য নিশ্চুপ’

বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সভাপতি তৌহিদুর রহমান বলেছেন, চারদিকে লাশ আর বারুদের গন্ধ। রক্তগঙ্গা বইছে মধ্যপ্রাচ্যের গাজা উপত্যকায়। বোমা-গ্রেনেড হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে ওই জনপদ। ফিলিস্তিনে জায়ানবাদী ইসরাইলি আগ্রাসনে নির্মম এই গণহত্যা কেবলই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত। লক্ষ্য অস্ত্র, হিরা ব্যবসা, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সম্পদের দখলদারিত্ব এবং আরব ভূমিতে আধিপত্য। স্বার্থের টানে আরব জাতীয়তাবাদী ঐক্য নিশ্চুপ। অন্যদিকে ফিলিস্তিনে গণহত্যা এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভে উত্তাল গোটা দুনিয়ার মানবতাবাদী মানুষ। বিক্ষোভ চলছে খোদ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই বিক্ষোভ দমাতে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে শত শত শিক্ষার্থীকে।

আজ শনিবার বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ যুব মৈত্রী ও বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ আজ মহাসংকটে পড়েছে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দেশে দেশে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা খেলছে। ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য এবং অস্ত্র ব্যবসার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট কাটাতেই আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছে। সেই চক্রান্তের চিরমিত্র ইসরাইল। নিজেদের স্বার্থে আরব বিশ্বের নেতারাও ফিলিস্তিন ইস্যুতে নির্যাতিতদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

যুবনেতা তৌহিদ বলেন, ইসরাইলের নেতানিয়াহু গোটা গাজাকে নির্জন ভূমিতে পরিণত করতে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। ফিলিস্তিনের এই সংকট নিরসনে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। কেবল স্বাধীন ভূ-খণ্ডই এই সংকটের সমাধানের পথ। তাই আমরা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা চাই। অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, গণহত্যা বন্ধ, নিঃশর্ত সৈন্য প্রত্যাহার করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বন্ধ করে মানবতার লড়াইয়ে গ্রেপ্তারকৃত মার্কিন শিক্ষার্থীদের মুক্তি চাই।

বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তাপস দাসের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি অতুলন দাস আলো, যুব মৈত্রীর সহসভাপতি কায়সার আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন, ছাত্র মৈত্রীর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তানভিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান নূর নীরব প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন, কলাভবন, রোকেয়া হল, সোপার্জিত স্বাধীনতা চত্ত্বর ঘুরে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়।