কক্সবাজারের টেকনাফের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাফর আহমদের দুই ছেলে দিদারুল আলম ও শাহজাহান একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে রাতের বেলায় অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে বলে দাবী করেছেন একই উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন।
শনিবার (৪ মে) দিনগত রাত ১টায় উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজুপুরার মেরিন ড্রাইভ সড়কের ছুটি রিসোর্টের সামনে ৭টি নোহা মাইক্রোবাস নিয়ে ওই মহড়া দেন দিদার ও শাহাজাহান সহ একদল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী। ওই সময় তারা টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল আলম ও বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যানকে উদ্দ্যেশে করে অকথ্য কথাবার্তা বলে।
এই বিষয়ে বাহারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, রবিবার রাতে চেয়ারম্যান পদপার্থী নুরুল আলম, আমি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছুটি রিসোটের দ্বিতীয় তলায় বসে কথা বলছিলাম। সে সময় টেকনাফ থেকে মেরিন ড্রাইভ হয়ে তিনটি ও শাপলাপুর থেকে একটি নোহা এসে ছুটি রিসোর্টের গেটের সামনে দাঁড়ায়। ওই সময় নোহা থেকে জাফরের দুই ছেলে দিদার ও শাহাজাহান সহ ২০/২৫ জন লোক নামে। তাদের অধিকাংশের হাতেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তখন তারা আমাকে ও চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ধরে অকথ্য গালিগালাজ করে। কিন্তু আমরা কোনো গণ্ডগোল চাই না বলে চুপ ছিলাম। পরে বিষয়টি আমি মোবাইলে পুলিশকে অবহিত করি। এছাড়া চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল আলম র্যাবকে জানায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্তলে আসলে জাফরের ছেলেরা এলাকা ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলম বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে দিয়ে উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি একটি গণ্ডগোল করার চেষ্টা করছেন। রবিবার রাতেও জাফর আলমের দুই ছেলেকে দিয়ে আমাদের গালমন্দ করিয়েছেন। ওই সময় খবর পেয়ে বাহারছড়ার লোকজন সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় আমি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।
তবে অভিযুক্ত মো. শাহাজাহান বলেন, রবিবার রাত চেয়ারম্যানদের সাথে আমাদের দেখা হয়নি। তারা ছিলেন ছুটি রিসোর্টে আর আমরা আমাদের কর্মীদের নিয়ে প্রায়ই ৬০০ ফুট দূরে আরেকটু রেস্তোরার সামনে ছিলাম। কিন্ত সেখানে বাহারছড়ার আইসি এসে পাশের রিসোর্টে চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল আলম রয়েছেন জানিয়ে আমাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পরে আমরা সেখান থেকে চলে আসি। এমন একটি ঘটনাকে রং চং মাখিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তার অনুসারীরা।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের আইসি মশিউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাতে আমরা জাহাজপুরায় যাই। তবে সেখানে গিয়ে আমরা কোন গণ্ডগোল দেখতে পাইনি। ছুটি রিসোটের দ্বিতীয় তলায় এক চেয়ারম্যান প্রার্থী অবস্থান করছিলেন। সেই স্থান থেকে কিছুটা দূরে সড়কে ছিলেন অপর চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছেলেরা। পরে আমরা কথা বলে তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দেই। ওই সময় আমরা কোনো অস্ত্র দেখিনি।