মেসির সামনে পুসকাস, পেছনে পেলে

ফুটবল মানেই গোলের খেলা। ফুটবল ম্যাচে একক নৈপুণ্যে গোল হয় তবে বেশিরভাগ গোলই খেলোয়াড়রা করে থাকেন অন্য কারও সহায়তায়। সেটি হতে পারে সতীর্থের পাস, ক্রস বা থ্রু বল থেকে। কর্নার থেকেও গোল হয়।

আর এই সহায়তা করাই হলো গোলের অ্যাসিস্ট। অনেক সময় গোলের চেয়ে তার অ্যাসিস্ট নিয়ে আলোচনা হয় বেশি। কাতার বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মেসির অ্যাসিস্ট বা সেমিতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলে মেসির অ্যাসিস্ট চোখে লেগে থাকার মতো। বর্তমান সময়ে মেসি, ডি ব্রুইন, মদ্রিচদের দারুণ সব অ্যাসিস্ট চিন্তার ভাজ ফেলে দেয় প্রতিপক্ষ দলের কোচদের কপালে।

শুধু আত্মঘাতী গোল, সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল, কর্নার থেকে সরাসরি গোল বা পেনাল্টি গোলের ক্ষেত্রে কোন অ্যাসিস্ট হয় না।

আজ বাংলাদেশ সময় রবিবার সকালে এমএলএস এর ম্যাচে লিওনেল মেসি একাই করেছেন ৫ গোলে অ্যাসিস্ট।

মায়ামি ৬-২ গোলে হারায় নিউ ইয়র্ক রেড বুলসকে। দলের হয়ে একটি গোলও করেন মেসি। অর্থাৎ ৬ গোলেই তার অবদান। মেসির ক্যারিয়ারে অ্যাসিস্টের সংখ্যা ৩৭২। প্রশ্ন হচ্ছে মেসিই কি সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করেছেন।

বর্তমানে খেলছেন এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে মেসির অ্যাসিস্টই সবচেয়ে বেশি। তবে সব মিলিয়ে মেসির চেয়েও বেশি অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড় আছেন তালিকায়।

অ্যাসিস্টের সংখ্যায় শীর্ষে  থাকা ফুটবলার হলেন -

ফেরেঙ্ক পুসকাস (৪০৪) : হাঙ্গেরির ফুটবলার ফেরেঙ্ক পুসকার তার দেশকে ১৯৫৪ বিশ্বকাপের ফঅইনালে তুলেছিলেন। ক্লাব পর্যায়ে রিয়ালের হয়ে তিনি ৩টি ইউরোপিয়ান কাপ (চ্যাম্পিয়নস লিগ) জিতেছেন। ক্যারিয়ারে ৭১৯ ম্যাচে তার অ্যাসিস্টের সংখ্যা ৪০৪টি।

লিওনেল মেসি (৩৭২) : লিওনেল মেসির অ্যাসিস্টের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩৭২টি। তিনি ম্যাচ খেলেছেন ১০৫৭টি। মেসি এখনও অ্যাকটিভ খেলোয়াড় তাই এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

পেলে (৩৬৯) : পেলে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার। ব্রাজিলের হয়ে জিতেছেন তিনটি বিশ্বকাপ। পেলের গোল সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। পেলের অ্যাসিস্টের সংখ্যা ৩৬৯টি।

ইয়োহান ক্রুইফ (৩৫৮) : টোটাল ফুটবলের জনক বলা হয় ক্রুইফকে। ডাচদের সর্বকালের সেরা ফুটবলার ভাবা হয় তাকে। ক্রুইফের ক্যারিয়ারে অ্যাসিস্টের সংখ্যা ৩৫৮টি। ক্রুইফ বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও ১৯৭৪ এ জিতেছিলেন ফিফা গোল্ডেন বল। তিনবার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন ক্রুইফ।

টমাস মুলার (৩১১) : জার্মানি ও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে এখন পর্যন্ত ৩১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন মিডফিল্ডার টমাস মুলার। জার্মানির ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। বায়ার্নের হয়ে ক্যারিয়ারে জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা।

এরপর আছেন লুইস সুয়ারেজ (৩০৪ অ্যাসিস্ট), লুইস ফিগো (২৮৩ অ্যাসিস্ট), রায়ান গিগস (২৭৭ অ্যাসিস্ট)। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অ্যাসিস্ট সংখ্যা ২৫০টি।