রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে বাস ধাক্কায় পিকআপ ভ্যানের চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। গতরাত পৌনে ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতালের সামনের রাস্তায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— বাবুল চিশতা (৪৫) ও কবির হোসেন বেপারী (৫০)। গুরুতর আহত অবস্থায় ২ জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।
যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সায়েম জানান, রাত পৌনে ২টার দিকে মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতালের সামনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি পিকআপ ভ্যান ইউটার্ন নিচ্ছিল। তখন তুহিন পরিবহনের একটি বাস পিকআপে ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপ ভ্যানটি দুমরে-মুচরে যায় এবং বাসটি পাশে খাদের পানিতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়রা পিকআপ ভ্যানের ভিতর থেকে মুমূর্ষু ওই দুইজনকে বের করে রাস্তায় রেখেছে। তখন তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় ওই বাসটিতেও কিছু যাত্রী ছিলেন। তবে তারা সামান্য আহত হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে যে যার মত চলে গেছেন। নিহত বাবুল চিশতি পিকআপ ভ্যানটির চালক। আর তার পাশের সিটে বসে থাকা ওই ব্যক্তির নাম পরিচয় ও পেশা জানা যায়নি। মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।
এদিকে, নিহত বাবুল চিশতির স্ত্রী নার্গিস আক্তার জানান, বাবুলের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সামন্তশা গ্রামে। বাবার নাম আব্দুর রশিদ আকন। পরিবার নিয়ে যাত্রাবাড়ীর মৃধাবাড়ি এলাকায় থাকেন। ভাড়ায় পিকআপ ভ্যান চালান তিনি। গতরাত ১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। বের হওয়ার সময় জানিয়েছিলেন, যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তে যাবেন। সেখান থেকে পিকআপ ভ্যানে করে মাছ নিয়ে কোথাও যাওয়ার কথা ছিল তার। তবে ভোরে পুলিশের মাধ্যমে তার দুর্ঘটনার খবর শুনতে পান পরিবার।
সোমবার সকালে তার স্ত্রী নাসরিন বেগম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ মর্গে এসে স্বামী কবির হোসেন বেপারীর মরদেহ শনাক্ত করেন। তিনি জানান, কবির হোসেনের বাড়ি শরীয়তপুরের ভেদেরগঞ্জ উপজেলার শিংজলা গ্রামে। বাবার নাম আব্দুর রশিদ বেপারী। পরিবার নিয়ে তারা থাকেন যাত্রাবাড়ী মৃধাবাড়ি এলাকায়। কবির হোসেনও পিকআপ ভ্যান চালক। দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপ ভ্যানটিতে বাবুলের সাথে কবির হোসেন ছিলেন।