গার্দিওলাকে চে গুয়েভারা মনে করতেন মেনোত্তি

সালটা ২০০৬। পেপ গার্দিওলা সবেমাত্র বুটজোড়া তুলে রেখেছিলেন। কোচিং ক্যারিয়ারে নিজের ভবিষ্যৎ দেখছিলেন তখন তিনি। তা হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। তার বন্ধু চলচ্চিত্র নির্মাতা ডেভিড ট্রুবা আর্জেন্টিনা ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন সে সময়। তার সফরসঙ্গী হলেন। আর সেখানেই তার দেখা হয়ে যায় কোচদের কোচ সিজার লুইস মেনোত্তির সঙ্গে।

সাংবাদিক ভিসেন্ত মুগলিয়ার একটি বই ‘চে পেপ’ থেকে জানা যায়, রিকোলেটার পিয়েগারি রেস্তোরায় মেনোত্তির সঙ্গে আড্ডায় বসেছিল গার্দিওলার। ভোর রাত ৩টা অবধি চলছিল সেই আলোচনা। সেখানে গার্দিওলা এতো প্রশ্ন মেনোত্তিকে করছিলেন যা কোনোদিন আর কেউ করেনি। যেন পেপ একটা মেশিনগান ছিলেন। কিন্তু তার আসলে শেখার কিছুই ছিল না, তিনি আগে থেকেই সবকিছু জানতেন।

ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল জেতানো কোচ গার্দিওলার ওপর মেনোত্তির প্রভাব অনিবার্য। ২০১৩-১৪ সালে মেনোত্তি ইউরোপ ভ্রমণ করেন। প্রতিটি ভ্রমণে স্প্যানিশ এই কোচের সঙ্গে আড্ডা হতো মেনোত্তির। যেখানে গ্যাব্রিয়েল মিলিতোর মতো ফুটবলাররাও যোগ দিয়েছিলেন। প্রায় ৩০ ঘণ্টার বৈঠকের শুরু ছিল, কিন্তু শেষটা যেন ছিল না।

২০২১ সালে গার্দিওলা মেনোত্তি সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘অন্যদিন আমি মেনোত্তির সাথে ছিলাম এবং আমি প্রশংসা করি যে তিনি ফুটবল সম্পর্কে আবেগ এবং উৎসাহ নিয়ে কথা বলেন। যা তিনি ৩৯ বছর বয়সে যখন তিনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। তিনি এখনও বিপ্লবী হয়ে উঠছে।’

বইটিতে গার্দিওলা সম্পর্কে মেনোত্তি লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, পেপ হচ্ছেন ফুটবলের চে গুয়েভারা। তিনি সবসময় বলতেন যে বিপ্লবী লড়াইয়ে জয়ী হয় বা মারা যায় এবং তার মতোই তার ধারণাটি অটুট এবং তিনি কখনই এটি সংশোধন করবেন না: তিনি ভালো খেলতে চান, তিনি স্থান এবং বলটি দখল করতে চান। এবং তিনি খেলার সময় পরিচালনা করতে চান।’