১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সমাজসেবক ও শিল্পানুরাগী রণদা প্রসাদ সাহাকে ছেলেসহ ধরে নিয়ে যায় এবং ধারণা করা হয় সেদিনই তাদের হত্যা করা হয়। তিনি আরপি সাহা নামেই বেশি পরিচিত। তার বাবার নাম দেবেন্দ্রনাথ পোদ্দার ও মা কুমুদিনী দেবী। ১৯১৫ সালে আলিপুর সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাঙালি পল্টনে যোগ দেন। প্রথমে ল্যান্স নায়েক হিসেবে পদোন্নতি পান এবং পরে জমাদার পদে উন্নীত হন। ১৯২০ সালের ১৫ অক্টোবর বাঙালি পল্টন ভেঙে দিলে কলকাতা ফেরত আসেন। তিনি রেল বিভাগে টিকিট কালেক্টর পদে চাকরি পান। ১৯৩২ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করে কলকাতায় কয়লা ও লবণের ব্যবসা শুরু করেন। এতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় আকারের পুঁজি সংগ্রহ করেন। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে রূপান্তরিত হওয়ার পরও তিনি সামাজিক সেবা প্রদান অব্যাহত রাখেন। ১৯৩৮ সালে মির্জাপুরে মায়ের নামে তিনি কুমুদিনী হাসপাতাল নির্মাণ করেন। ১৯৪৩ সালে টাঙ্গাইলে মেয়েদের জন্য কুমুদিনী কলেজ স্থাপন করেন। প্রপিতামহী ভারতেশ্বরী দেবীর নামে ১৯৪৫ সালে ‘ভারতেশ্বরী হোমস’ প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের প্রথম আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটি। ১৯৪৬ সালে মানিকগঞ্জে বাবার নামে প্রতিষ্ঠা করেন দেবেন্দ্র কলেজ । এ ছাড়া দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সহায়তা দেন। রণদা প্রসাদ সাহার জন্ম ১৮৯৬ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকায়।