বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল ছাত্রলীগ নেতার 

কক্সবাজারের টেকনাফের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহারিয়ার মুরাদ নামের এক ছাত্রলীগ নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে নিহতের বন্ধুসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত। এ সময় নিহতের বড় ভাই মো. মামুনকেও কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। সোমবার (৬ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর বাজারের নুর আহমেদ মার্কেটে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মুরাদ বাহারছড়া ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সাইফুল্লাহ কোম্পানির ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কক্সবাজার সিটি কলেজের ছাত্র।

সিসিটিভির ফুটেজ থেকে দেখায়, উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউপির মনখালী ৯নং ওয়ার্ড এলাকার জাকিরের ছেলে আদিল ও অলি উল্লাহ মৌলভীর ছেলে রফিকসহ কয়েকজন শামলাপুর বাজারে আগে থেকেই অবস্থান করছিল। সন্ধ্যার দিকে সাইফুল্লাহ কোম্পানির দুই ছেলে বাজারে গেলে তাদের উপর হামলা চালায়। ওই সময় পাশের  কামারের দোকান থেকে তৈরিকৃত ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক আহত করে দুই ভাইকে। পরে স্থানীয়রা আহত সহোদরদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুরাদকে মৃত ঘোষণা করেন। 

সিসিটিভিতে দেখা যায়, ঘাতক আদিলের হাতে ছুরি এবং রফিকের হাতে রয়েছে দা। এসব ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভুক্তভোগীদের কুপিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিছবাহ উল্লাহ বলেন, কয়েক দিন আগে মনখালীতে একটা ছবি আদান প্রদানকে কেন্দ্র মুরাদকে এর আগেও মারধর করে ওই সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনার জের ধরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে আজকেও পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা করে। ঘটনার এক পর্যায়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে প্রতিপক্ষরা।

টেকনাফ ছাত্র লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুন্না বলেন, হত্যাকারীরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মুরাদকে হত্যা করেছে। তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. উসমান গণী বলেন, ‘নিহত মুরাদ এবং হত্যাকারী তারা উভয়ই বন্ধু ছিল। তাদের মাঝে একটা ছবি আদান প্রদান নিয়ে ঝামেলা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।