বগুড়ার শাজাহানপুরের ছটফট করতে করতে স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিকেলে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃতরা হলেন নন্দীগ্রাম উপজেলার নিম গ্রামের হেফজুল মিঠু (৪০) ও তার স্ত্রী আফরোজা বেগম (৩৫)। তারা শাজাহানপুরের আড়িয়াবাজার এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য শফিকুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। মিঠু পেশায় বগুড়া শহরের আশপাশে গাছের ব্যবসা করতেন।
মিঠু ও আফরোজার স্বজনেরা জানান, প্রায় একযুগ আগে নন্দীগ্রামের হেফজুলের সাথে শাজাহানপুরে প্রাণবাড়িয়া গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে আফরোজার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোনো সন্তান নেই। হেফজুল মিঠু ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মায়েশিয়াতে প্রবাস জীবন কাঁটান। করোনা মহামারির সময় সেখান থেকে দেশে ফিরে তিনি শাজাহানপুরে টিনশেড বাড়ির দুই কক্ষ ভাড়া নিয়ে ভায়রা জুয়েল হাসানের সাথে গাছের ব্যবসা শুরু করেন।
বাড়িওয়ালা শফিকুল ইসলাম বলেন, হেফজুল তার স্ত্রীকে নিয়ে দুই বছর আগে তার বাড়ি ভাড়া নেন। তারা স্বামী-স্ত্রী মিলেমিশে থাকতেন, কখনও তাদের মধ্যে ঝগড়া দেখিনি। বৃহস্পতিবার সকালে হেফজুলকে আড়িয়াতে বাজার করে বাড়ি ফিরতে দেখি। এর কিছুক্ষণ পর আমার মেয়ে মুঠোফোনে জানায় হেফজুল ও আফরোজা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দ্রুত বাসায় গিয়ে দেখি তারা ছটফট করছিল ও কোনো কথা বলতে পারছিল না। আফরোজার বোন শিমুর সহযোগিতায় তাদের শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। এখন এর মধ্যে তাদের মধ্যে কি যে হয়েছে, তা জানি না।
হেফজুলের ভায়রা জুয়েল জানান, আফরোজার সঙ্গে হেফজুলের প্রায় একযুগ আগে বিয়ে হয়। শুরু থেকেই তিনি গাছের ব্যবসা করেন। আজ সকালে তাকে ফোনে জানিয়েছেন শহরের পুলিশ লাইনস এলাকায় গাছ কাটা হবে। এরপর খবর আসে তারা হাসপাতালে। খবর পেয়ে সেখানে গেলে দুজনকেই মৃত অবস্থায় দেখতে পান জুয়েল।
বিকেল ৩টার দিকে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, তারা বিষপান করে মারা গেছেন এটা বলা সম্ভব না। কারণ চিকিৎসা দেওয়াই সম্ভব হয়নি। কিন্তু মৃত্যুর আগে তারা দুজনই ছটফট করছিলেন। তাদের মৃত্যুর লক্ষণে আত্মহত্যার ধারণা করা যায়। এ বিষয়টি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যাবে।