মানবীয় গুণাবলির মধ্যে অন্যতম উৎকৃষ্ট গুণ হলো দানশীলতা। দানশীলতার গুণ বান্দার জন্য বয়ে আনে অফুরান কল্যাণ। যা দ্বারা বান্দা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়। দান-সদকার দ্বারা দুনিয়ায় সম্পদের প্রাচুর্য বাড়ে, সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক মানসিক প্রশান্তিও মেলে। আর পরকালের জন্য সঞ্চিত হয় অগণিত সওয়াব। দান-খয়রাত না করে সম্পদ সঞ্চয় করে রাখলে প্রশান্তির সেই ছোঁয়া পাওয়া যায় না। অর্জিত হয় না কোনো সওয়াব। বরং দান না করার কারণে পরকালে মহান আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা বলবেন, ‘হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে দেখতে আসোনি। সে বলবে, আমি আপনাকে কীভাবে দেখতে আসতে পারি? আপনি তো সারা বিশ্বজগতের প্রতিপালক! তিনি বলবেন, তুমি তো জেনে ছিলে যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল, তবুও তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে দেখতে যেতে, তবে তুমি আমাকে তার নিকট পেতে? (আল্লাহ বলবেন) হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে খাদ্য দাওনি। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আপনি তো বিশ্বজাহানের মালিক! আমি আপনাকে কীভাবে খাওয়াতে পারি? তিনি বলবেন, তুমি তো জেনে ছিলে যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে খাদ্য দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে খাবার খাওয়াতে তাহলে আমার কাছ থেকে তা পেতে। (আল্লাহ বলবেন) হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম অথচ তুমি আমাকে পানি দাওনি। সে বলবে, আপনি হলেন সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক, আপনাকে আমি কীভাবে পানি পান করাতাম? তিনি বলবেন, তুমি তো জেনে ছিলে যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি পান করতে চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে পানি দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে পান করাতে তবে তার পুরস্কার আমার কাছে পেতে।’ (সহিহ মুসলিম)
আলোচ্য হাদিসে সৃষ্টির সেবার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হাদিসের মূল কথা হলো আল্লাহর রহমত, বরকত ও সওয়াব হাসিলের সবচেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত পথ হচ্ছে আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি, বিশেষত মানুষের প্রতি সহযোগিতা, কল্যাণ ও উপকারের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
পার্থিব জীবনে আমরা জিকির, নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, রোজা বা তাহাজ্জুদ ইত্যাদি ইবাদতের সওয়াব সম্পর্কে যতটুকু সচেতন, সৃষ্টির সেবার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে ঠিক ততটাই যেন বেখবর। অথচ সৃষ্টির সেবার গুরুত্ব অপরিসীম। বলা হয়েছে, আল্লাহকে ভালোবাসতে হলে অবশ্যই তার সৃষ্টিকে ভালোবাসতে হবে এবং তাদের সেবা ও সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব হলো মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা।’ (সহিহ বোখারি)
মানবকল্যাণের গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যতক্ষণ একজন মানুষ অন্য কোনো মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহতায়ালা তার জন্য কল্যাণ করবেন।’ (সহিহ মুসলিম)
আলোচ্য হাদিসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। বিষয়গুলো হলো অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা ও খোঁজখবর নেওয়া, ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য দান করা এবং পিপাসিত ব্যক্তিকে পানি পান করানো।