চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীতে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে এক পাইলট (বৈমানিক) নিহত হয়েছেন। আহত অন্য পাইলট চিকিৎসাধীন আছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পাইলটের নাম মুহাম্মদ অসিম জাওয়াদ।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশ বন্দর জোনের উপকমিশনার (বন্দর) শাকিলা সোলতানা বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নৌবাহিনী হাসপাতালের চিকিৎসক দুপুর ১২টার দিকে পাইলট অসিম জাওয়াদকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানে দুজন পাইলট ছিলেন। এর মধ্যে উইং কমান্ডার সুহান আহত অবস্থায় সার্জেন্ট জহুরুল হক ঘাঁটির মেডিকেল স্কোয়াড্রনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এক বার্তায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরে বিমানের দুজন পাইলটকে উদ্ধার করা হয়।
আইএসপিআর জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। সে সময় বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে বিমানবন্দরের পাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে বিমানটিকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যান দুই পাইলট। এর ফলে অনেক বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় স্থানীয় মানুষজন।
কর্ণফুলী নদীর ওপরে আসার পর বিমানে থাকা দুজন পাইলট প্যারাশুট দিয়ে নেমে যান। একপর্যায়ে বিমানটি কর্ণফুলী নদীতে বিধ্বস্ত হয়। কর্ণফুলী নদী থেকে তাদের উদ্ধার করে বিএনএস পতেঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই সার্জেন্ট জহুরুল হক বিমান ঘাঁটির অবস্থান। দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি সেখান থেকে উড়াল দিয়েছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানবাহিনীর সেই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানের খোঁজ মেলেনি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক জানান, দুর্ঘটনার পরপরই নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী বিধ্বস্ত বিমানটির উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তবে খোঁজ মেলেনি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। দুর্ঘটনার কারণে বন্দরে জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত অসিম জাওয়াদের জন্ম ১৯৯২ সালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামে। তার বাবার নাম ডা. মো. আমান উল্লাহ এবং মায়ের নাম নীলুফা আক্তার খানম। অসিম ২০০৭ সালে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ২০০৯ সালে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ২০১২ সালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস থেকে বিএসসি (অ্যারো) পাস করেন।
স্কোয়াড্রন লিডার অসিম জাওয়াদ ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে ক্যাডেটদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান সোর্ড অব অনার প্রাপ্তিসহ জিডি (পি) শাখায় কমিশন লাভ করেন।
চাকরিকালে তিনি বিমানবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি পেশাদারি দক্ষতা ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মফিজ ট্রফি’, ‘বিমানবাহিনী প্রধান ট্রফি’ ও বিমানবাহিনী প্রধানের প্রশংসাপত্র লাভ করেন। এ ছাড়া ভারতীয় বিমানবাহিনীতে কোর্সে অংশগ্রহণ করে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ চিফ অব এয়ার স্পেস ট্রফি ফর বেস্ট ইন ফ্লায়িং অর্জন করেন।