পাকিস্তানের প্রথম চন্দ্র-উপগ্রহ আইকিউব-কামার চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে গেছে। শুক্রবার (১০ মে) সেখান থেকে চাঁদের ছবিও তুলে পাঠিয়েছে উপগ্রহটি। পাকিস্তানের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত ৩ মে চাঁদের উদ্দেশে হাইনান প্রদেশ থেকে যাত্রা শুরু করে চীনের চ্যাং-৬। এই অভিযানের সঙ্গেই দেশের প্রথম চন্দ্র-উপগ্রহ পাঠায় পাকিস্তান। পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব তিন লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। ৮ মে দুপুরে সফলভাবে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে উপগ্রহটি। এরপর থেকে নিজের কাজ করে চলেছে আইকিউব কামার।
৮ এবং ৯ মে’র মধ্যে পাকিস্তানের স্যাটেলাইট যে ছবিগুলো তুলেছে, তাতে চন্দ্রপৃষ্ঠের একাধিক ছবি দেখা গেছে। সেখানকার গর্ত, রুক্ষ মাটির খুঁটিনাটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। একটি ছবিতে চাঁদের সঙ্গে একই ফ্রেমে ধরা দিয়েছে সূর্যও। সেই ছবিটি নিয়ে ইতিমধ্যে চর্চাও শুরু হয়েছে বিজ্ঞানী মহলে।
পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্পেস টেকনোলজি (আইএসটি) দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকো এবং চীনের সাংহাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করে, যার প্রাথমিক লক্ষ্য চাঁদকেন্দ্রিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং মহাকাশ সংক্রান্ত অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষামূলক উদ্যোগ ত্বরান্বিত করা। আইকিউব কামার যে ছবি পাঠিয়েছে, তা আগামী দিনে পাকিস্তানের চাঁদকেন্দ্রিক গবেষণায় কাজে লাগবে।
চাঁদের কক্ষপথে আপাতত তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত থেকে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার কথা আইকিউব কামারের। চাঁদকে প্রদক্ষিণ করতে করতে সেটি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবে। পাকিস্তান এর আগে চাঁদের কাছাকাছি কোনো স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠায়নি। ফলে এই অভিযান তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ বলের আওতায় প্রবেশ করেছে চীনের চ্যাং-৬। জুনের প্রথম দিকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একটি অংশে অবতরণ করবে সেটি। এমন জায়গায় তার গন্তব্য, যে অংশ পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান নয়। সেখান থেকে মাটি এবং পাথরের নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে নিয়ে আসবে চ্যাং-৬।