সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক ও বাংলাদেশের পথিকৃৎ নারী আলোকচিত্রী সাইদা খানমের ওপর রচিত ও সম্পাদিত দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র অডিটোরিয়ামে এক প্রকাশনা উৎসবে ‘সাইদা খানমের রচনাসমগ্র’ এবং ‘একজন সাইদা খানম’ শীর্ষক বই দুটির মোড়ক উন্মোচিত হয়।
প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাসবিদ ও গবেষক অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, চিত্রশিল্পী ও লেখক অধ্যাপক মতলুব আলী, অভিনেত্রী ও শিক্ষক আলেয়া ফেরদৌসী এবং আলোকচিত্রী পাভেল রহমান। এ ছাড়া ডা. সারা ফাতিমা ‘সাইদা খানমের রচনাসমগ্র’ সম্পাদনা এবং আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক সাহাদাত পারভেজ রচিত ‘একজন সাইদা খানম’ রচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
আলোচনায় সাইদা খানমের রচনা ও আলোকচিত্রকে বিশেষ সময়ে ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। নতুন প্রজন্মকে সাইদা খানমের সৃষ্টি নিয়ে আরও কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পঞ্চাশের দশকে সাইদা খানম সৃজনশীল কাজ করেছে, অনুশোচনার বিষয় এসব আমাদের অজানা ছিল। ওই সময়ের রচনার প্রভাব নতুন শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সাইদা খানমকে জানার মাধ্যমে আমাদের ইতিহাস পুনরুজ্জীবিত হবে।’
অধ্যাপক মতলুব আলী বলেন, ‘সাইদা খানম ভিখিরি থেকে রানী এলিজাবেথের ছবিও তুলেছেন। তবে তা সাধারণ কোনো ছবি নয়, প্রাণবন্ত। যেন প্রতিটি ছবিই কথা বলছে।
প্রখ্যাত আলোকচিত্রী পাভেল রহমান বলেন, ‘সাইদা খানম একটি বিশেষ সময়ে সংবাদ আলোকচিত্র করেছেন, যা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। তার তোলা নারী মুক্তিযোদ্ধাদের ডামি অস্ত্র নিয়ে মহড়ার ছবি দেখে আমি অবাক হয়ে থাকি। তিনি কত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করেছেন, তা আজ কল্পনাও করতে পারি না।’
মাত্র ১২ বছর বয়সে বেগম পত্রিকায় সাইদা খানমের প্রবন্ধ ছাপা হয় জানিয়ে ‘সাইদা খানমের রচনাসমগ্র’র সম্পাদক ডা. সারা ফাতিমা বলেন, ‘সাইদা খানম সম্পর্কে আমার খালা। আমি আমার দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এই কিংবদন্তির লেখাগুলো প্রকাশ করেছি।’
‘একজন সাইদা খানম’ বইয়ের লেখক সাহাদাত পারভেজ বলেন, ‘অন্য আলোয় উদ্ভাসিত এক কীর্তিমান সাইদা খানম। সাংবাদিকতায়, উপন্যাসে ও আলোকচিত্রে ওনার প্রতিভা বিস্তৃত। তমসা নিভিয়ে তার আলোর পথের যাত্রাকে আমি একজন আলোকচিত্রীর দায়বদ্ধতা থেকে প্রকাশ করেছি।’