ছোটবেলায় তথাকথিত 'ভালো শিক্ষার্থী' ছিলাম। আবার 'খারাপ' শিক্ষার্থীও হয়ে উঠেছিলাম পরে। আজকে মা দিবস। আমার মায়ের মত বিদ্যানুরাগী মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি। শ্রেণি উত্তরণ, নারীর উন্নতি আর জীবনের বিকাশ; এই তিনটির দারুণ এক সমন্বয়। আমার নিজেরও শৈশব থেকে বিদ্যানুরাগ ছিল। আর তখনো সমাজে বুয়েট মেডিকেল কিংবা স্ট্যান্ড করা শিক্ষার্থীরে নিয়ে এক গভীর মোহ কাজ করত। এটি যতটা না বিদ্যানুরাগ তারও অধিক পেশানুরাগ।
ফলে, চারপাশ এবং নিজের ভেতর থেকেও ভীষণ এক চাপ অনুভব করতাম। বিশেষত 'খারাপ' শিক্ষার্থী কালীন সময়ে। একদিকে প্রবল আগ্রহ অন্যদিকে আশঙ্কা আর তাই ভীতির সংমিশ্রণে এক বিচিত্র মনোগঠন তৈরি হচ্ছিল। আমি সেটি অগ্রাহ্য করতে চেয়েছিলাম। ফলে এক ধরনের বিদ্রোহ এবং প্যাসিভ এগ্রেসিভ মনোভাব ক্রিয়াশীল ছিল।
তাই তথাকথিত 'ভালো শিক্ষার্থী' আর 'খারাপ শিক্ষার্থী' বিষয়ক বাস্তবতার বিরাটাকার শূন্যতাগুলো পরিষ্কার আমার কাছে। আমার মনে হয় মানব জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ভয়কে অবমুক্ত করতে থাকা। ভয় একটি দারুণ মোটিভেশন। ভয় থেকে মানবের মুক্তি হবে কিনা আমার জানা নেই তবে আমি নিশ্চিত মুক্তি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এটাই মানুষের মিশন বলে আমার মনে হয়।
সমাজ মানেই কাঠামোর উপরে দাঁড়ানো। কাঠামো যেমন কিছু সুবিধা দেয় তেমনি বন্দীও করে। উচ্চশিক্ষা, ভালো রেজাল্ট, পরিশ্রম এগুলোকে খাটো করে আমি দেখি না। তবে কতটা বড় করে দেখব সেটিকে প্রশ্ন করি।
দার্শনিকভাবে এসএসসি, এইচএসসি, মাস্টার্স, পিএইচডি, আরও যা যা এগুলো এক ধরনের কাঠামোর বৈতরণি মাত্র। না, মাত্র শব্দটিকে ছোট করে লিখছি না। অনেকেই চেক এ ২২০০০ কোটি টাকা মাত্রও লেখেন। তবে কাঠামোর ধর্মই হল, আপনি যত বেশি কাঠামোর শিখরে যাবেন তত বেশি কাঠামোময় হয়ে উঠবেন। যদিও হওয়ার কথা ঠিক উল্টো।
এ কারণে এ অঞ্চলে পাশ করা লোকের সংখ্যা প্রচুর; প্রতিভা বিরল। কাঠামোকে এত ভালোবাসার কিছু নেই। এসএসসি দেন আর গুগলে ঢোকেন আর পিপিপি হন। গুড।
এসএসসিতে খারাপ করেছেন, এইচএসসিতে সিজিপিএ খারাপ। ঠিক আছে।
আপনি বেঁচে আছেন। অপরের জন্য যন্ত্রণার কারণ হচ্ছেন না এবং ক্রমাগত ভয় পাওয়ার সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। আপনি জীবনে সফল।
লেখক: নৃবিজ্ঞানী, শিক্ষক, সোশ্যাল মিডিয়া তাত্ত্বিক
dr.moiyen@gmail.com